ভারতে বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, নেত্রকোনায় হুমকিতে বোরো ধান
হাওরাঞ্চলের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি
ভারতের চেরাপঞ্জি এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বেড়েছে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরাঞ্চলে চাষ করা ৪১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শুক্রবার থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ধনু নদে প্রায় সাড়ে তিন ফুট পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যায় হাওরের ৪১ হাজার হেক্টর জমির উঠতি বোরো ফসল হুমকিতে পরবে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপঞ্জি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে অন্তত ৩৫৭ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সীমান্তের ওপারে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাওরের সবকটা নদীর পানি বাড়ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ধনু নদীতে অন্তত সাড়ে তিন ফুট পানি বেড়েছে। এরই মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
খালিয়াজুরী উপজেলার চুনাই হাওর, বাইদ্যার চর, কাটকাইলের কান্দা ও কীর্তনখলা হাওরের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাওরের কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। তবে পানি বাড়তে থাকলে রোববার কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট এলাকার গ্রাম পুলিশের সদস্য মিজাজুল মিয়া ও আরজ আলী বলেন, নগর ইউনিয়নের বৈলং হাওর তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত ৩০০ একর নিচু জমির উঠতি বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকলে আরও কয়েকটি হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে।
গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট গ্রামের কৃষক মুক্তোল হোসেন ও নূর মোহাম্মাদ বলেন, আমাদের অন্তত ২০ একর আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। সারা বছরের একমাত্র ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ হয়েছে। কিন্তু কৃষিবিভাগ থেকে আগাম জাতের ধানের চাষের পরামর্শ দিলে এমন ক্ষতি হতো না।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী জাগো নিউজকে বলেন, নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে এ বছর ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর দুই সপ্তাহ পরে পুরোদমে হাওরে ফসল কাটা শুরু হবে। তবে আগাম বন্যার জন্য খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ধনু নদে পানি বাড়তে শুরু করে। অন্তত সাড়ে তিন থেকে চার ফুট পানি বেড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। তবে নিন্মাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হয়েছে। আমরা বাঁধের পিআইসি কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছি। আমি নিজেও শনিবার বেশ কয়েকটি হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করেছি। যেখানে জিও ব্যাগ ফেলার দরকার, সেখানে তা প্রস্তুত রেখেছি। পানি বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে, সেক্ষেত্রে সবার সর্তক থাকতে হবে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জাগো নিউজকে বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপঞ্জি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে অন্তত ৩৫৭ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ পানির বেশি অংশ ধনুসহ কয়েকটি নদীতে চলে এসেছে। এখনো বাঁধের কয়েক ফুট নিচে আছে পানি। আর পানি না বাড়লে কোনো ক্ষতি হবে না।
এইচ এম কামাল/এসজে/জেআইএম