নোয়াখালীতে ৭ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী
নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪৯২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন
নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪৯২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ৪০৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ৭৩ ভাগ। তবে গত সাতদিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় কোনো মৃত্যুর সংবাদ নেই।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ও ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মহিউদ্দিন আবদুল আজিম এতথ্য নিশ্চিত করেন।
সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জাগো নিউজকে জানান, গত এক সপ্তাহে জেলার সদর উপজেলা বাদে আট উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ৩৭৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরমধ্যে বেগমগঞ্জে আক্রান্ত ৩৫, সুস্থ ২৭ জন; সোনাইমুড়ীতে আক্রান্ত ৬৩, সুস্থ ৫৯ জন; চাটখিলে কোনো আক্রান্ত নেই, সেনবাগে আক্রান্ত ৪৭, সুস্থ ৩৭ জন; কোম্পানীগঞ্জে আক্রান্ত ৭০, সুস্থ ৭০ জন; হাতিয়ায় আক্রান্ত ৩৬, সুস্থ ৫৬; সুবর্ণচরে আক্রান্ত ৮৬, সুস্থ ৬৪ জন ও কবিরহাটে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন।

অন্যদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জাগো নিউজকে জানান, গত সাতদিনে ১১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত বছরের তুলনায় এবার ডায়রিয়া রোগীর চাপ তেমন নেই বলেও জানান আরএমও।

বৃহস্পতিবার জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে অনেকগুলো সিট খালিও দেখা গেছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত মার্চ মাসে জেলায় জেনারেল হাসপাতালে ৪৪৫ জন রোগী ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। এরমধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৪৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের (৯ নম্বর) সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসিমা আক্তার জাগো নিউজকে জানান, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ভর্তি হয়ে ২৫ মিনিটের মাথায় মারা যান সুবর্ণচরের আকিব (১)। ২৭ মার্চ ভর্তি হয়ে পরদিন মারা যান একই উপজেলার সামিনা জাহারা নামের ১০ মাস বয়সী শিশু। এছাড়া ৩০ মার্চ সকাল ৯টায় ভর্তি হয়ে দুপুর ১২টায় মারা যান বেগমগঞ্জের জিরতলীর হাসান (২৩) ও একইদিন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ভর্তি হয়ে আধাঘণ্টা পর মারা যান চৌমুহনীর হাজিপুরের ফারজানা (১৮)।

জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জাগো নিউজকে বলেন, অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আসায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সামিনা জাহারার কিডনি ও মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ (মেনিনজাইটিস) ছিল। হাসান লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।
অন্যদিকে সদর বাদে বাকি আট উপজেলায় মার্চ মাসে এক হাজার ২০৮ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে এক হাজার ১৬৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে নোয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিরোধমূলক নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিম, উঠান বৈঠকসহ যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে সেগুলোতে এক লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এতে অনেকটা সুফল পাওয়া গেছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন
- ২ সীমান্তে সড়ক নির্মাণ নিয়ে কথা রাখেনি বিএসএফ, ফের পতাকা বৈঠক
- ৩ নাগরিকত্ব জটিলতায় ঝুলে রইলো বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর ভাগ্য
- ৪ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে ওয়াজ মাহফিল শোনার দরকার নাই
- ৫ স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে