ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে যমুনার পানি

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০১:০৫ পিএম, ১৮ জুন ২০২২

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া নদীর পানি বাড়ায় তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন।

শনিবার (১৬ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হাসানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সকাল থেকে যমুনা নদীর কাজীপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১২ ঘণ্টায় আট সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। গত ১২ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সকাল থেকে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দ্রুত যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চৌহালী, এনায়েতপুর, কাজীপুর, বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

এছাড়া পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, ইছামতি, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগরসহ অন্যান্য নদী ও খাল-বিলের পানি বেড়েই চলেছে। এতে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমির পাট, তিল, কাউন, বাদাম, শাকসবজি নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

jagonews24

শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে এক সপ্তাহ আগে ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে বহু বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বাড়িঘর, ফসলি জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। দ্রুত ভাঙন বন্ধ না হলে বিলীন হয়ে যাবে বিশাল এলাকা।

এদিকে, কাজীপুরের তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ বলেন, যমুনার পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের মাঠগুলো তলিয়ে গেছে। মানুষজন বন্যার আতঙ্কে রয়েছে। চরগুলোতে পানি ওঠায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন তারা।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী বলেন, গত চারদিনে চর বয়ড়া, বর্ণি, দোরতা, সয়াশাখা ও কাটাঙ্গা চরের নিচু জমিগুলো প্লাবিত হয়েছে। এখন মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ওঠার অপেক্ষা। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িঘরেও পানি উঠতে পারে।

jagonews24

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এভাবে পানি বাড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। এছাড়া ভাঙন রোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীর পানি ২২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে ভাঙনসহ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

এমআরআর/এএসএম