ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এমএলএম কোম্পানি খুলে প্রতারণা, তিন শিক্ষকসহ গ্রেফতার ৮

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২২

এসবিএসএল নামে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন মাদরাসা শিক্ষকসহ আট প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

গ্রেফতাররা হলেন- সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিমিটেড (এসবিএসএল) কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৯), ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহসিন আলী (৩১), ফিন্যান্স ডিরেক্টর মো. ইমরান হোসেন (২৮), কর্মী মো. হাসান আলী (২৮), মো. আব্দুল হান্নান (৪৩), মো. মোস্তফা রাশেদ পান্না (৪৭), মো. আইয়ুব আলী (২৮) এবং মো. হাফিজুর রহমান (২৮)।

শনিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ইউনিটের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. ইলিয়াস খান সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই প্রতারক চক্রটি কুষ্টিয়ায় সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদেরকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়। কোম্পানিটির প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় ৩০০ পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া ছাড়াও কোম্পানিটি ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহীতে প্রতারণার জাল বিস্তৃত করে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে গ্রাহকদের ১২০০ টাকা দিয়ে কোম্পানির আইডি খুলতে বলা হতো। প্রতি আইডি থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা ও আইডি বাবদ জমা করা ১২০০ টাকার সমমূল্যের পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। শুরুর দিকে কিছু গ্রাহক টাকা ও পণ্য পাওয়ার কারণে অনেকেই আইডি খুলতে উৎসাহিত হন। এক সময় গ্রাহকদের লভ্যাংশের টাকা না দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রটি। লগ্নি করা টাকা হারিয়ে শতশত গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়েন।

চক্রটির প্রতারণার বিষয়ে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক গত ২৬ আগস্ট কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১২’র একটি দল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে এমএলএম কোম্পানির প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যমতে আরও তিনজনকে ঝিনাইদহ ও ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

র্যাব জানায়, গ্রেফতার আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তিন মাদরাসা শিক্ষকসহ পাঁচজনকে ডিবি পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী দুটি পরিবার কুমারখালী থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করে। র্যাবের হাতে গ্রেফতার আটজনের মধ্যে নিখোঁজ হওয়া ওই পাঁচ ব্যক্তিও আছেন।

আল মামুন সাগর/এমআরআর/জেআইএম