ফরিদপুরে বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে পুলিশের মামলা
রোববারের ছবি
ফরিদপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, যুগ্ম আহ্বায়ক আজম খান, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নাজরিন রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ভিপি ইউসুফ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার শিথিল, মামুনুর রশীদ মামুনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রথম সারির ৩২ জনের নামোল্লেখসহ চার থেকে পাঁচশ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা করে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে আহত করা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের কোর্ট চত্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে প্রথমে পুলিশের বাধা ও নেতাকর্মীদের টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টার পর পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের হামলায় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ কমপক্ষে ৩৫ জন গুরুতর আহত হন বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় শহিদুল ইসলাম বাবুলকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, রোববার বিকেলে আদালত চত্বরের সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট ছুড়ে। এতে চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় এ মামলা রুজু করা হয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, রোববার বিকেলে পুলিশের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার ভিডিও দেখে যাদের শনাক্ত করা গেছে, মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। ভিডিওতে যাদের চেনা সম্ভব হয়নি, তাদের পরিচয় খোঁজা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী এ মামলার প্রতিক্রিয়ায় জাগো নিউজকে বলেন, বিনা উসকানিতে পুলিশ আমাদের উপর চড়াও হয়েছে। এরপর পুলিশের প্রশ্রয়েই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করেছে। এখন তারাই উল্টো আহতদের আসামি করে মামলা করেছে।
এন কে বি নয়ন/এমএইচআর