ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন ১২ দিন, বেতন নেন পুরো মাসের

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিওলজি) ডা. শরীফ মুহাম্মদ আল বাবর তালুকদার নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা. শরীফ মুহাম্মদ আল বাবর তালুকদার ২০০১ সালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। সপ্তাহে তিনদিন কর্মস্থলে থাকেন। বাকি চারদিন ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন। অথচ পুরো মাসের বেতন-ভাতাই পাচ্ছেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে বারবার সতর্ক করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সবশেষ গত ২৫ জুলাই হাসপাতালে এক আলোচনা সভা ডাকা হয়। সভায় ডা. বাবর তালুকদারকে নিয়মিত অফিস করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে তিনি সপ্তাহে তিনদিনের বেশি অফিস করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে। পরে বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানান।

জানতে চাইলে ডা. শরীফ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাবর তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে তিনদিন সিজারিয়ান অপারেশন হয়। সার্জনও সপ্তাহে তিনদিন আসেন। আমিও ওই তিনদিন ও এর বেশিও থাকি। যেহেতু আমার কাজ হচ্ছে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া, সেজন্য অপারেশন না থাকলে আমার কোনো কাজ থাকে না। তাই আমি বসে থেকে কী করবো? এ কারণে পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতে সময় কাটাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি নিয়ম মানতে হয় তাহলে সবার জন্য সমান নিয়ম হতে হবে। আমার পেছনে কিছু লোকজন লাগছে। তাই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.খালেদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডা. বাবর তালুকদার সপ্তাহে তিনদিন অফিস করেন। গত আগস্ট মাসে উনি মাত্র ১৩ দিন অফিস করেছেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পুরো মাসই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হয়। বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি অফিসে নিয়মিত আসেন না। সবশেষ একটি মিটিংয়ে তাকে অনুরোধ করা হলে তিনি তিনদিনের বেশি কর্মস্থলে থাকতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। যে কারণে বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

এন কে বি নয়ন/এসআর/জিকেএস