বদলগাছীর ছোট যমুনা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তেজাপাড়া গ্রামের পাশে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে নদীর বাঁধ ও ফসলি জমিহ চার-পাঁচটি গ্রাম হুমকির মধ্যে পড়েছে।
বাধা দেওয়া সত্ত্বেও ইজারাদাররা বালু উত্তোলন করায় সোমবার (৭ নভেম্বর) ২০টি ট্রাক্টর আটকে দেন গ্রামবাসী। এ ঘটনায় ইজারাদার বাদী হয়ে থানায় চাঁদাবাজির মামলা করলে বাবুল আক্তার (৫০) নামের একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
বালু উত্তোলন বন্ধ ও গ্রেফতার বাবুল আক্তারসহ অন্যদের চাঁদাবাজি মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বদলগাছী সদর ইউনিয়নের তেজাপাড়া গ্রামবাসীর ব্যানারে উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,ছোট যমুনা নদী উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত। নদীর উত্তরে দেউলিয়া, দক্ষিণে কোমারপুর, পূর্বে কাস্টডোব ও পশ্চিমে তেজাপাড়া গ্রাম অবস্থিত। ছোট যমুনা নদীর তেজাপাড়া গ্রামের পাশ থেকে কখনো বালু উত্তোলন করা হয়নি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে পয়েন্ট করে বালু উত্তোলন শুরু করেন ইজারাদাররা।
ট্রাক্টর দিয়ে বালু বহন করায় গ্রামীণ রাস্তা নষ্ট, স্কুলে আসা-যাওয়ায় শিশুদের সমস্যা, ফসলি জমি ও গ্রাম ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাধাকে উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ২০টি ট্রাক্টর আটকে দেন তেজাপাড়া গ্রামবাসী। পরে ইজারাদারের অংশীদার ভগিরথ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন।
এ ঘটনায় ইজারাদার তপন কুমার মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার রাতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। একই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর তেজাপাড়ার গ্রামের বাবুল আক্তার নামের একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মানববন্ধনে চারটি গ্রামের প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা বালু উত্তোলন বন্ধ ও গ্রেফতার বাবুল আক্তারসহ অন্যদের চাঁদাবাজি মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
তেজাপাড়া গ্রামের ইউসুফ আব্দুল্লাহ সোহাগ বলেন, নদী থেকে একটি মহল জোর করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে তেজাপাড়া, কাদিবাড়ি, জিধিরপুর ও কোমারপুর গ্রামের রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৫০-৬০টি বালুবাহী ট্রাক্টর রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। বালু উত্তোলন করায় ফসলি জমি ও নদীভাঙনসহ গ্রাম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
বালুমহালের ইজারাদারের অংশীদার ও বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভগিরথ কুমার বলেন, ‘রাস্তা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্ভব না। অথচ সরকারি রাস্তা সবার ব্যবহার করার অধিকার আছে। কিন্তু গ্রামবাসীরা রাস্তা ব্যবহার করতে দেবে না। এ ঘটনায় আমরা ১০ জন অংশীদার রাতে সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করেছি।’
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, মামলার পর বাবুল আক্তার নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে এবং তা বালুমহালের ইজারার অন্তর্ভুক্ত। আগামী বছর যাতে এটি বালুমহালের ইজারার অন্তর্ভুক্ত না হয় সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আব্বাস আলী/এসআর/এএসএম