ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘চাই লন, বাছি লন, এক দাম একশ’

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

ডিসেম্বরের শেষদিকে এসে ফেনীতে সকাল ও রাতে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের আগমনে ফেনীর রাজাঝির দীঘির পাড়ের খোলা মার্কেটে গরম কাপড়ের দোকানে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ‘চাই লন, বাছি লন, এক দাম একশ’, এভাবেই শীতের কাপড় বিক্রি করছেন হকাররা।

এদিকে, শীত নিবারণে গরম কাপড় কেনায় ব্যস্ত লোকজন। ফেনীর নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা রাজাঝির দীঘির পাড়ের মার্কেট ও সড়কের পাশে ভাসমান দোকান অর্থাৎ হকারদের বিক্রি করা পুরাতন গরম কাপড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই কাপড়ের মার্কেটে নানা বয়সী মানুষের ভিড় রয়েছে। বিক্রেতারা ক্রেতা দেখলেই করছেন হাঁকডাক। এছাড়া সড়কের পাশে ভাসমান দোকানিদের কাপড় বিক্রি জমে উঠেছে। কেউ পসরা সাজিয়েছেন শিশুদের পোশাক দিয়ে। কারও কারও কাছে আবার সব বয়সীদের শীতের পোশাকও রয়েছে। হাঁকডাক একটাই, ‘চাই লন, বাছি লন’।

ডাক শুনে ভিড় করছেন পথচারীরা। দীর্ঘ সময় বাছাবাছি করলেও বিরক্ত বোধ করেন না দোকানিরা। দোকানিরা বেশির ভাগই গার্মেন্টসের স্টক লটের পোশাক বিক্রি করেন। কালেকশনও ভালো। সোয়েটার, জ্যাকেট থেকে শুরু করে রয়েছে ভিন্ন রঙের কানটুপি, মাফলার, হাত মোজা ও ট্রাউজার।

ক্রেতা বৃদ্ধ হাফিজ মিয়া বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। পরিবারের জন্য কিছু কাপড় কিনতে এসেছি। দাম বেশি হওয়ায় কয়েকটা দোকানে ঘুরে ঘুরে দেখতে হচ্ছে।

গৃহিণী শরিফা বানু বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। অভাবের সংসার দামি শীতের কাপড় সন্তানদের কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই এখান থেকে কাপড় কিনতে এসেছি। কম দামে কয়েকটা কাপড় কিনেছি। আরও কয়েকটা কিনব।

ফেনী রাজাঝির দীঘির পাড় হকার্স সমিতি সূত্র জানায়, গত বছরের তুলনায় পাইকারিতে পোশাক কিনতে তাদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে। যে কারণে এবার দাম কিছুটা বেশি।

বিক্রেতা সাইফুল আলম বলেন, আমি ২০ বছর ধরে পুরাতন কাপড় বিক্রি করি। দিনে দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারি। শীত আরও বাড়লে বিক্রিও বাড়বে।

মার্কেটের পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন বলেন, আমার দোকানে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার কাপড় আছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মতো কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারিতে কাপড়ের দাম বেশি। এবারে লাভের অঙ্ক নিয়ে শঙ্কায় আছি। তবে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা বিক্রি হয়।

এদিকে, এবার শীতে কম্বল বিক্রি তেমন নেই বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। তারা বলছেন, কম্বল মজুত থাকলেও সেই হারে বিক্রি নেই। প্রতিবছর শীতের আগে থেকেই কম্বল বেচাবিক্রি শুরু হয়, তবে এবার তা নেই।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/এএসএম