ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সন্ধ্যা হলেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে রূপগঞ্জের রাস্তায়

উপজেলা প্রতিনিধি | রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) | প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

শীতের আমেজ শুরু হতেই রূপগঞ্জের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। বাহারি সব পিঠাপুলি নজড় কাড়ছে পিঠাপ্রেমীদের। সন্ধ্যা হলেই পিঠাপুলির দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রির ধুম পড়ে। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর থেকেই উপজেলার জনবহুল অলিগলি ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে বা বসে লাইন দিয়ে পিঠা খেতে দেখা যায় অনেককেই।

শীত মৌসুমে প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলি বানানোর অয়োজন গ্রাম বাংলার চিরচারিত রীতি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ঘরে ঘরে পিঠাপুলি তৈরির আয়োজন এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ব্যস্ততা ও পারিপার্শ্বিক সমস্যায় নিজ হাতে পিঠাপুলি তৈরির আয়োজন কমে গেলেও পিঠাপ্রিতি ও ভোজন কিন্তু থেমে নেই। পিঠাপ্রেমীরা এখন দোকানের পিঠার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাড়িতে পিঠা বানানোর ঝামেলা এড়াতে অনেকেই দোকান থেকে পিঠা ক্রয় করে স্বাদ মেটাচ্ছেন। আর এ পিঠা বিক্রি করেই জীবিকা চালাচ্ছেন অনেকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চুলার অল্প আঁচে ধোঁয়া উঠছে। তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিতই, ভাপাসহ অন্যান্য পিঠা। আর চুলা থেকে নামানোর পর মুহূর্তেই তা চলে যাচ্ছে অপেক্ষমাণ ক্রেতার হাতে। দোকানে ভাপা, পাটিশাপটা, তেলের পিঠা ও চিতই পিঠা বিক্রি হলেও চিতই আর ভাপা পিঠার চাহিদাই বেশি। চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও ধনিয়াপাতা ভর্তা দেওয়া হয়।

সন্ধ্যা হলেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে রূপগঞ্জের রাস্তায়

ডিম দিয়েও বানানো হয় চিতই পিঠা। ভাপা পিঠা ৫-১০ টাকা, ডিমচিতই ১৫ টাকা, তেলের পিঠা ৫ টাকা, পাটিশাপটা ১০ টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতারা রাস্তার পাশে দোকানে বসে সেই পিঠা খাচ্ছেন। কেউবা নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য।

উপজেলার ভুলতাগাউছিয়া, গোলাকান্দাইল, সাওঘাট, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, বরপা, রূপসী, মাসাব, তারাব বিশ্বরোড, ভক্তবাড়ি চেয়ারম্যান মার্কেট, দাউদপুর, বিরাব, আতলাপুর, নোয়াপাড়া, বরাব ও তারাব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে, মোড়ে, পাড়া-মহল্লায় ও অলিগলি আর ফুটপাতে গড়ে উঠেছে কয়েকশ মৌসুমী পিঠার দোকান।

ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় একটি পিঠার দোকানে কথা হয় জিয়া সরকার নামে এক চাকরিজীবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। পেষাগত কারণে প্রায় ৭ বছর যাবত রূপগঞ্জে থাকেন। প্রতিবছরই শীত মৌসুমে এখানে পিঠা খেতে আসেন।

সন্ধ্যা হলেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে রূপগঞ্জের রাস্তায়

পিতলগঞ্জ চেয়ারম্যানবাড়ি বাজারের পাশে মৌসুমী পিঠা বিক্রেতা রুনা বেগম বলেন, ভাপাপিঠা, চিতই পিঠা ও চাউলের চাপটি বিক্রি করেন তিনি। তার দোকানে ভালোই বেচা-বিক্রি হয়। সাংসারিক প্রয়োজনে একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা নিয়েছেন তিনি। পিঠা বিক্রির আয় থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার কিস্তি দিয়েও তার সংসার ভালোই চলছে।

মাসাব বাজারের পিঠা বিক্রেতা তাঁরা মিয়া বলেন, আগে তিনি ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রীবাহী বাস চালাতেন। শারীরিক সমস্যার কারণে এখন গাড়ি চালাতে পারেন না। দুই বছর যাবত তিনি মাসাব বাজারে পিঠা বিক্রি করছেন। প্রতিদিন তিনি ১৫০ থেকে ২০০ পিছ পিঠা বিক্রি করতে পারেন। সব খরচ বাদে প্রতিদিন তিনি ৪শ থেকে ৬শ টাকা আয় করতে পারেন।

এফএ/জেআইএম