গৃহবধূকে কোপানোর অভিযোগ, আ’লীগ নেতা বলছেন সাজানো
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা ও তার চাচাতো ভাই বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে।
তবে অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লার দাবি কাউকে মারধর করা হয়নি। ঘটনা সাজানো।
শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমন অভিযোগ করেন নিশিতা আক্তার উর্মি নামে ওই নারী। এর আগে দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের খলিফারহাট এলাকায় সীমানা প্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে এ ঘটনা ঘটে। আহত উর্মি একই এলাকার ব্যবসায়ী রাসেল খলিফার স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা মনির মোল্লা স্থানীয় এলকেএইচ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। বিদ্যালয়ের পাশেই ভুক্তভোগী উর্মিদের জমি রয়েছে। সেখানে বাড়ি করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে মনির মোল্লা লোকজন নিয়ে এসে প্রাচীরটি ভাঙতে শুরু করেন। এতে বাধা দেওয়ায় উর্মির মাথায় মনির মোল্লা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন। এ সময় তাকে লাটিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। বিকেলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উর্মি ও তার স্বামী রাসেল খলিফা জানান, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মনির মোল্লা তাদের জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। জমি দখলে নিতে না পেরে বিভিন্ন সময় একাধিকবার তাদের (রাসেলদের) ওপর হামলা করা হয়েছে। সবশেষ তাদের সীমানা প্রাচীর ভাঙার সময় বাধা দেওয়ায় মনির মোল্লাসহ তার লোকজন উর্মিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন।
তবে অভিযুক্ত মনির হোসেন মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ের রাস্তায় রাসেলরা জোরপূর্বক দেওয়াল নির্মাণ করেন। এতে দেওয়ালটি ভেঙে দিয়েছি। কাউকে মারধর করা হয়নি। রাসেলের স্ত্রীর আহতের ঘটনা সাজানো। উল্টো তিনি আমার গায়ে হাত তুলেছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাজল কায়েস/এফএ/এএসএম