ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চেয়ারম্যানের কক্ষে যেতে ‘আপত্তি’, বারান্দায় সভা করলেন এমপি

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদের বারান্দায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা করেছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ)। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চেয়ারম্যানের কক্ষে এ আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে আলোচনা সভার ব্যানার ঝুলানো হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে। তবে চেয়ারম্যান অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে রোকেয়া বেগম দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি চেয়ারম্যানের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ত্রিতাল সঙ্গীত নিকেতনের সদস্যসহ প্রায় ২৫-৩০ জন। কিন্তু সেই কক্ষে আর সভা হয়নি৷

চেয়ারম্যানের কক্ষের বাইরের বারান্দায় সভাটি হয়। এর প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের (৩১২) সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ)। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. হানিফ ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শের আলম মিয়া, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩০ জন। তবে বারান্দার সে সভায় যোগ দেননি প্যানেল চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভার আয়োজক সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন বলেন, ‘তেমন কোনো কারণ নেই। রুমে জায়গা সংকুলান হওয়ায় বারান্দায় করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠান সূচিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষ নির্ধারণ এবং ওই কক্ষে ব্যানার ঝুলানোর বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘আসলে গ্লাস থাকায় সেখানে ব্যানার লাগানো যায়নি।’

তবে প্যানেল চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সব আয়োজন চেয়ারম্যানের কক্ষে করা হয়েছিল৷ উপজেলা চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় তিনি ছিলেন না। আমিসহ অনেক মানুষ সেই কক্ষে সভার অপেক্ষায় ছিলাম। সংসদ সদস্য এসে নিজের দাপটে এখানে সভা করেননি। তিনি বারান্দায় সভা করলেন। আমি অনুরোধ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আসেননি। আমি বলেছি- জীবনে এ প্রথম দেখলাম সরাইলে জাতীয় দিবসের কোন আলোচনা সভা বারান্দায় হতে।’

চেয়ারম্যানের কক্ষে যেতে ‘আপত্তি’, বারান্দায় সভা করলেন এমপি

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রায় ১৫০-২০০ জন অবস্থান করতে পারে। আসন বসানো ছিল ৫০টিরও বেশি। এখানে সভাটি করলে কোনো সমস্যা হতো না।’

সভায় উপস্থিত থাকা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শের আলম মিয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য শিউলি আজাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে সভার আয়োজন হয়েছে। এখানে একটি বিষয় আছে সবাই জানে (এমপির স্বামী হত্যা মামলার আসামি উপজেলা চেয়ারম্যান)। এ অবস্থায় আপত্তি ওঠায় ইউএনও সিদ্ধান্ত নিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান। যেহেতু উপজেলা প্রশাসনের পুরাতন স্থাপনা ভেঙে নতুন ভবন করা হচ্ছে। তাই বারান্দায় সভাটি করা হয়। পাশাপাশি ভাষা দিবসের আলোচনা। সেখানে কোনো আওয়ামী লীগের নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তাহলে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে কে আলোচনা করবে! ইউএনও সাহেব নতুন এসেছেন, তাকে সভার আয়োজনসহ সবকিছুতে মিসগাইড করেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদ জামিল।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদ জামিল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সভার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর সব কিছু করেছেন ইউএনও। আমি কেন এ বিষয়ে কথা বলবো? বুঝতে পারছি না সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমন অভিযোগ করলেন কেন!’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলি আজাদ) বলেন, ‘অন্য কোথাও কোনো সভার আয়োজন হয়েছে কি-না আমার জানা নেই। উপজেলা প্রশাসনের মিলনায়তন ভেঙে ভবন করা হচ্ছে। তাই সভা বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসজে/জেআইএম