ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বকেয়া বেতনের জন্য অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ২০ জুন ২০২৩

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা সদরের এম এম ওসমান মডেল স্কুলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের বেতন বকেয়া থাকায় শিক্ষার্থীদের বাঁশের লাঠি, বেত ও লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষার্থীদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে স্কুল থেকে পালিয়ে যান শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিনসহ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের কাছে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ সময় আহত শিক্ষার্থীরা তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতের চিহ্ন প্রশাসনকে দেখায় এবং অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলে।

স্থানীয় ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা থানার পাশে অবস্থিত এম এম ওসমান মডেল স্কুলটি দীর্ঘদিন যাবত পাঠদানের অন্তরালে কোচিং বাণিজ্য করে আসছে। অথচ সরকারিভাবে পাঠদানের কোনো অনুমতি নেই প্রতিষ্ঠানটির। ভাঙ্গায় অবস্থিত বিভিন্ন স্কুলে সঙ্গে আঁতাত করে ওইসব স্কুলের নামে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থীকে নিয়মিত কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পাঠদান করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগেও উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে সরকারি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছালে প্রশাসনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেসময় তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। তারপরও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধর ওসমান।

এ ব্যাপারে স্কুলের কর্ণধার এম এম ওসমান বলেন, আমার স্কুল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকও জড়িত। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আহত অনেক শিক্ষার্থী স্থানীয় ক্লিনিক ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ। সরকারি কোনো অনুমোদনও নেই। তারা ব্যক্তিমালিকানাধীনভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালাতো। এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। মৌখিকভাবে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রদের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছি।’

এন কে বি নয়ন/এফএ/এএসএম