ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৫০ বছর ধরে ভোজনরসিকদের মন ভরাচ্ছে সিরাজের চপ

এন কে বি নয়ন | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২৩

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পৌরসদরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চপ বিক্রি করছেন তিনি। ওই এলাকায় ‘সিরাজের চপ’ খেতে রোজ বিকেলে ভিড় করেন কাছে-দূরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঐতিহ্য বহনের পাশাপাশি প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই অঞ্চলের ভোজনরসিক মানুষের মন ভরাচ্ছে সিরাজের চপ।

খবর নিয়ে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের বয়স ৬৬ বছর। ১৫ বছর বয়সে তিনি প্রথমে বাবুর্চির কাজ করতেন। ওই বয়সেই নিজের কিছু একটা করার আগ্রহ নিয়ে শুরু করেন চপ তৈরি করে বিক্রি করা। সেই থেকে শুরু। দিনে দিনে তার চপের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে অত্র এলাকাজুড়ে। শুরুতে এক টাকা দুই টাকায় বিক্রি হলেও এখন প্রতি পিস চপের দাম দশ টাকা।

আগে প্রতিদিন গড়ে দুইশো চপ বিক্রি করলেও এখন তিনি দিনে প্রায় চারশো পিস চপ বিক্রি করেন। পরিমাণমতো মসলা, বাছাই করা আলু ও খাসির মাংসের কিমা দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে তৈরিই এ চপের বৈশিষ্ট্য। খেতে খুবই মজাদার ও সুস্বাদু। আর এ কারণেই মানুষের কাছে সিরাজের চপ এতো পছন্দের।



প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে ব্যস্ততা শুরু হয় সিরাজের। ছোট দোকানে চেয়ার-টেবিল কিংবা বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তার ওপর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে কিনতে হয় চপ। দোকানের মধ্যে সিরাজ নিজহাতে ভাজেন আলু ও খাসির মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি চপ। প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্রি হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সমস্ত চপ শেষ হয়ে যায়। এরমধ্যে অনেকেই না পেয়ে ফিরে যান।

দুপুরের পর বাজারে লোকসমাগম যতো বাড়তে থাকে, ততোই ব্যস্ততা বাড়ে সিরাজের। চপ বিক্রি করে চলে তার সংসার। বর্তমানে ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে প্রতিপিস চপ দশ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার শুধু চপ বিক্রি হয় সিরাজের দোকানে। চপ তৈরি, ভাজা, ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া, চপের দাম রাখা সবকিছুই তিনি একা হাতে সামলান।

সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে চপ বিক্রি করছি। দিনে দিনে চাহিদা যেন বাড়ছেই। শুরুতে দাম ছিল একটাকা, এরপর দুই টাকা। কয়েক বছর আগে তিন টাকা করে প্রতিদিন গড়ে তিনশো চপ বিক্রি করতাম। তখন সংসার বেশ ভালো চলতো। এখন সবকিছুর দাম বাড়তি তাই দশ টাকা করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারশো চপ বিক্রি করেও সংসার ঠিকঠাক মতো চলে না। আমার চপে ভেজাল-পচা-বাসি কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না। সবকিছুই তরতাজা।

সিরাজ বলেন, চপের জন্য সারা বছরের আলু বগুড়া থেকে আমদানি করি। পোড়া তেল ব্যবহার করা হয় না। ফ্রেশ মসলা ও খাসির মাংসের কিমা দিয়ে প্রতিদিন ভাজা হয় চপ। দীর্ঘ এতো বছরেও এ অঞ্চলের মানুষের কাছে আমার চপের জনপ্রিয়তা এতোটুকু কমেনি। এতো মানুষের মন ভরাতে পারছি, এটাই আমার ভালোলাগা ও স্বার্থকতা।

ক্রেতা ও পৌরসদরের ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সিরাজের চপ নামকরা চপ। সবার কাছে জনপ্রিয়। খেতেও সুস্বাদু। স্ত্রীকে নিয়ে বাজারে এসেছি তাই মনে করলাম সিরাজের চপ খাই। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে প্রায় আধাঘণ্টা পর দশটি চপ কিনেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফরিদপুর জর্জ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেলিমুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ছোটকাল থেকেই সিরাজের চপ খেয়ে আসছি। ছোটকালে দুই টাকা করে কিনে খেতাম। এখন দশ টাকা। প্রায়ই চপ খাওয়া হয়। সিরাজের চপ একনামে সবার কাছে পরিচিত। যে একবার খেয়েছেন তার অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

চতুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ সেলিমুজ্জামান লিটু জাগো নিউজকে বলেন, অত্র এলাকার মধ্যে সিরাজের চপ বেশ নামকরা। একনামে সবার কাছে পরিচিত। সিরাজের চপের নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। এখনও সুযোগ পেলেই খাওয়া হয়।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাক্তন পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদুর রহমান বলেন, তেলে ভাজা নানান খাবারের মধ্যে সিরাজের চপ একটি জনপ্রিয় ও পরিচিত নাম। অনেকটা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয় বলে শুনেছি। তার হাতের চপ খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছে বলে শুনিনি।

বোয়ালমারী পৌরসভার মেয়র মো. সেলিম রেজা লিপন মিয়া বলেন, সিরাজের চপ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ও পরিচিত। বেশ নাম করা। খেতে সুস্বাদু। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে চপ বিক্রি করছেন।

এফএ/এএসএম