ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তাণ্ডবে দুজনের মৃত্যু

অবশেষে ধরা পড়লো সেই হাতি

জেলা প্রতিনিধি | রাজশাহী | প্রকাশিত: ০৭:৫৮ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২৩

রাজশাহীর তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে তাণ্ডব চালানো হাতিটি অবশেষে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে এটি আটক করা সম্ভব হয়। ঢাকা থেকে আসা উদ্ধারকারী দল চেতনানাশক ট্রাংকুলাইজার ব্যবহার করে হাতিটি অচেতন করে আটক করেন।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাতিটির মালিকের বাড়ি বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায়। বিকেল ৪টার দিকে হাতিটি ধরার পর মালিকের পক্ষে শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় এ হাতি নিয়ে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এখন আর তা নেই। এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মানিকড়া গ্রামের আমবাগানে দুটি হাতি বেঁধে রেখে এর মালিক খাবার খেতে যান। একপর্যায়ে হাতি দুটি গাছের ডাল ভেঙে ছুটে যায়। বুধবার (৮ নভেম্বর) সকালে থেকে মানিকড়া গ্রামে হাতি দুটি দেখতে জমায়েত হয় উৎসুক মানুষ। এসময় তারা হাতি দুটি আটকের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে হাতি দুটি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সেখানে থাকা কিশোর মুফাসসিরকে একটি হাতি শুঁড় দিয়ে ধরে আছাড় মারে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বুলবুল হোসেনের ছেলে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে হাতির আক্রমণে যুবক নিহত

একটি হাতিকে আমনুরা শিমুলতলা মোড়ে আটক করা সম্ভব হয়। আরেকটি হাতি চলে যায় পার্শ্ববর্তী তানোর এলাকায়। তানোর উপজেলার ধামধুম এলাকায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিটি তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে রামপদ মুণ্ডা নামের এক যুবককে পিষ্ট করে চলে যায় হাতিটি। এতে ঘটনাস্থলেই রামপদ মারা যান। তিনি উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের জুমার পাড়া গ্রামের মৃত ললিত মুণ্ডার ছেলে।

অবশেষে ধরা পড়লো সেই হাতি

হাতি ছুটে যাওয়ার খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা সেটি ধরার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাতিটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে কাজ স্থগিত করা হয়।

এদিন হাতি ধরতে উপজেলা প্রশাসন তানোরের ধামধুম গ্রামে অবস্থান নিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে ছিল পুলিশ। ফায়ার সার্ভিস থেকে পানি দিয়েও হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। চেতনানাশক ট্রাংকুলাইজার দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত খবর দেওয়া হয় ঢাকায়।

ঢাকা থেকে আসা বনবিভাগের উদ্ধারকারী দল বৃহস্পতিবার সকালে তানোরে গিয়ে দেখতে পায়, তানোরের ধামধুম গ্রাম থেকে হাতিটি সরে গিয়ে বৈধ্যপুর কবরস্থানে অবস্থান নিয়েছে। হাতি আতঙ্কে আশপাশের গ্রামের মানুষ এদিন মাঠে নামতে পারেননি। দুপুরে বনবিভাগের উদ্ধারকারী দল হাতিটি ধরে ফেললেও শিকল ভেঙে পালিয়ে যায়।

রাজশাহী বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, দুপুর ১টার দিকে চেতনানাশক দিয়ে এটি ধরে ফেলা হলেও কিছুক্ষণ পর এটি আবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে চেতনানাশক ট্রাংকুলাইজার ব্যবহার করে হাতিটি অচেতন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ক্ষুব্ধ লোকজন হাতিটি ঘিরে ধরে ঢিল মারতে থাকেন। এ অবস্থায় হাতিটি আবারও ছুটে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন হাতির মালিক পক্ষকে এটি বুঝিয়ে দেয়।

সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/জেআইএম