ঢলের পানিতে চকরিয়ায় কিশোরের মৃত্যু, বৃষ্টি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন সাঁতারে প্রাণে বেঁচেছেন। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বরইতলীর পহরচাঁদা বিবিরখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর মো. হাবিব (১৩) বরইতলীর পহরচাঁদা বিবিরখিল এলাকার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নামে বরইতলীতে। সোনাইছড়ির ছড়াখাল উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল স্থানীয় সড়কের ওপর দিয়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিন কিশোর বাড়ি থেকে বের হয়ে পহরচাঁদা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এসময় সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া ঢলের স্রোতে ভেসে যায় তারা। দুই কিশোর সাঁতরে বেঁচে গেলেও হাবিব পানিতে ডুবে যায়। অল্পক্ষণ পর তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন।

ঢলের স্রোতে ভেসে গিয়ে কিশোরের মৃত্যুর বিষয়ে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
এর আগে গত ২২ আগস্ট বৃষ্টি ও ঢলের প্লাবনে রামু উপজেলায় চারজন নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে ঈদগড়ের সাচিং মারমা (২৬) ও গর্জনিয়ার আমজাদ হোসেনের (২২) মরদেহ পাওয়া যায়। আরও দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার ভোর থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় নামতে শুরু করেছে বানের পানি। ঈদগাঁওয়ের ভোমরিয়াঘোনা, সওদাগরপাড়া, হিন্দুপাড়া, খোদাইবাড়ি, ইসলামাবাদ, শিয়াপাড়া, মাইজপাড়া, চান্দেরঘোনা, রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, চেইন্দা, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, বাংলাবাজার, খরুলিয়া, খুরুশকুল এলাকার পানি নেমেছে। ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। বাসাবাড়ির ভেতরে জমা পানি ও কাদা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে দুর্ভোগে পড়া মানুষ। পানি নামলেও এখনো রান্নার যোগাড় করতে পারেনি তারা। ভুক্তভোগীদের জীবন সচল রাখতে এলাকায় এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা সাধ্যমতো রান্না করা ও শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করছে। হঠাৎ পানি ঢুকে ঈদগাঁওয়ের চান্দেরঘোনাসহ বেশ কিছু এলাকায় মুরগির খামারে মারা গেছে সংখ্যক মুরগি।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস