ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোলে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা

প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ১৭ মে ২০১৬

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোলে তীব্র পণ্যজট লেগেছে। গত ১৫ ও ১৬ মে টানা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও পণ্যজট থেকে রেহাই পায়নি ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে ট্রাকজট। সেই সঙ্গে সারাদেশ থেকে বেনাপোলে খালি ট্রাক ঢোকায় জট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে,  প্রতিদিন ভারত থেকে তিনশ থেকে সাড় চারশ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসে। দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানিও হয়। পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সোমবারও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এতে করে মাছ, পেঁয়াজ, পানপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের দুই শতাধিক ট্রাকে প্রায় একশ কোটি টাকার কাঁচা পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তীব্র গরমের মধ্যে এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

Benapole-Jam

বেনাপোল স্থলবন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমিটির ডাকা ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ওই দুইদিন তারা বন্দর থেকে কোনো আমদানি পণ্য পরিবহন করেনি। যে কারণে বন্দরে পণ্যজট লেগে গেছে। তারপর সারাদেশ থেকে বন্দরে খালি ট্রাক আসতে থাকায় যানজট তীব্র আকার নিয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মাত্র চার ঘণ্টায় ভারতের কলকাতা থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে পারে। ঠিক একইভাবে বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানি পণ্য পৌঁছায় কলকাতায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের শিল্প কারখানার ৭০ শতাংশ কাঁচামাল বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়। এছাড়া প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানিও হয়। প্রতি বছর সরকার এ বন্দর থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। ট্রাক ও পণ্য জটে আমদানি পণ্য আটকা থাকায় দেশের শিল্প কারখানায় উৎপাদন কাজে বিরুপ প্রভাব পড়বে।

Benapole-Jam

এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক নিতাই রায় জানান, ধর্মঘটে দুইদিন ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দরের বাইরে জট লেগেছে। তবে আমাদের মধ্যে কোনো জট নেই। যতদ্রুত সম্ভব পণ্য খালাস করা হচ্ছে। মঙ্গলবার কমপক্ষে ৫০০ ট্রাক খালাস করা হয়েছে।
 
এদিকে, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রতিনিয়ত লেগে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। এর কবলে পড়ে মানুষের যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছে না দূর দূরন্তের যাত্রীরা। ভারত যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীসহ স্থানীয় জনসাধারণ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন জানান, বাজার ও বন্দর এলাকার যানজট নিরসনে পৌর সভার দায়িত্ব নয়। দায়িত্বটি মূলত পুলিশ ট্রাফিক বিভাগের। তারপরও যানজটমুক্ত রাখতে মাইকিং করা হয়ে থাকে।

পৌরসভার বেতনে বেসরকারি লোক নিয়োগ করে যানজট নিরসনে ট্রাক-বাসগুলো সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দেয়ায় বাস-ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে আপত্তি উঠায় সে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে আমরা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাইপাস সড়কটি চালু হলে যানজট কমে আসবে।

জামাল হোসেন/এআরএ/এবিএস