ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললেও এখন আবার টানা দরপতন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস দরপতন হলো।

ডিএসইতে দাম কমার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত। যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার এক শতাংশের ওপরে কমানো হয়।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবস (১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারি) শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। একই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে উঠে আসে। কিন্তু ৪ জানুয়ারি বিকেলে সঞয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এরপর শেয়ারবাজারে আবার টানা দরপতন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৭টির। এছাড়া ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৬টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ৪৩টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন
১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম কটন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, রহিমা ফুড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রবি।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এমএএস/কেএসআর/জেআইএম