ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

নির্বাচনি ইশতেহারে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আবশ্যক

ইব্রাহীম হুসাইন অভি | প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাধারণত একটি নির্বাচনি ইশতেহার কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। তাই প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি। এখানে কোনো রকম ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছাড়া সামনে এগোনো ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে কী থাকা উচিত—এ বিষয়ে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি ইব্রাহীম হুসাইন অভি

রাজনৈতিক দলগুলো শিগগির তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাদের ইশতেহারে কী দেখতে চান?

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কমিটমেন্ট। ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে থাকে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ তৈরি হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুর্বল থাকে এবং অর্থনীতি আর্থিক সংকটে পড়ে, তাহলে অন্য কোনো উন্নয়নমূলক কর্মসূচিই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তখন সরকারকে সব সময়ই সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতে হয়।

বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি বজায় রাখার প্রতি একটি ক্রেডিবল অঙ্গীকার। সাম্প্রতিকসময়ে রিজার্ভ কিছুটা উন্নত হয়েছে, রপ্তানি খাতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো হয়েছে। কিন্তু এগুলো ধরে রাখা ও টেকসই করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

এক কথায়, ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হওয়া উচিত সব অর্থনৈতিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য ফিসক্যাল ম্যানেজমেন্ট, মনিটারি ও এক্সচেঞ্জ রেট ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিষয়গুলো ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।

কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান কেমন হওয়া উচিত?

কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিনিয়োগকে গতিশীল করা সম্ভব নয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বাস্তব রূপ পাবে না। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে, নতুন সরকার সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না।

বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া সংস্কার, ব্যাংক মার্জার প্রক্রিয়া এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ইশতেহারে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা দরকার। তারা কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে তার রূপরেখা থাকাও জরুরি।

নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে আপনি কি কোনো বিশেষ সুবিধা বা ইতিবাচক দিক দেখছেন?

নতুন সরকারের একটি বড় সুবিধা হলো—ইতোমধ্যে বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির মাধ্যমে অর্থনীতির গভীর বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রে প্রায় ৫শ পাতায় দেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা ও খাতভিত্তিক সমস্যার একটি স্পষ্ট ডায়াগনোসিস দেওয়া হয়েছে। নারীবিষয়ক কমিশনসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির রিপোর্টও তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে যে প্রতিবেদনগুলো দেওয়া হয়েছে, সেখানে কী করতে হবে এবং কেন করতে হবে—সবই ব্যাখ্যা করা আছে। ফলে নতুন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজন নেই।

এখন সরকারের কাজ হবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা—কোন সংস্কার আগে করা হবে, কোনটি পরে। ব্যাংকিং, শিক্ষা, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোন কৌশলে তা কার্যকর করা সম্ভব, সে সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে।

এসব কৌশল নির্ধারণ কোনো বাইরের কমিটির কাজ নয়। তাই ইশতেহারে সংস্কারের প্রাধান্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রাইভেটাইজেশন ও ইমপ্লিমেন্টেশন স্ট্র্যাটেজি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি।

বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ট্রেড রিলেশন বর্তমানে কিছুটা চাপে আছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে কী থাকা উচিত?

বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ট্রেড রিলেশন নিয়ে ইশতেহারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শ্বেতপত্রে ট্রেড সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো সেখানে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন কিছু ট্রেড চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত, এইড ও ট্রেড সংক্রান্ত কাঠামোগত সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য পুনর্গঠন ও ট্রেড সংস্কারকে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

আইএইচও/এএসএ/এমএফএ