ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

পণ্য খালাসে গতি ফেরাতে কঠোর অবস্থান: ১৩ ভেসেলকে জরিমানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৪৩ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

​আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। সংকট মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স, যারা গত ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের প্রধান নৌপথগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

তাদের অভিযানে ১৩ ভেসেলকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২টি মামলা প্রসিডিং এ রয়েছে।

​রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এখন আমাদের যথেষ্ট জাহাজ আছে। প্রতিদিনই লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ দিনে মোট ৭৩৫টি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা থেকে শুরু করে যশোরের নোয়াপাড়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘাটে দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাস হতে দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, টাস্কফোর্সের নিবিড় তদারকি এবং নতুন ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালুর ফলে পণ্য খালাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

​অধিদপ্তর জানায়, ​রমজানে বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানিকারকরা বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করায় গত জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে মাদার ভেসেলের আগমন স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। আজ পর্যন্ত বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে, যার মধ্যে ৩৬টি খাদ্যপণ্যবাহী।

​এই বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাসের জন্য হঠাৎ লাইটার জাহাজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে এক ধরনের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দেশে মোট ২২৫৮টি লাইটার ভেসেল চলাচল করছে।

​টাস্কফোর্সের অভিযান ও বর্তমান চিত্র সম্পর্কে ​নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান- নৌপরিবহন অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে গঠিত তিনটি টাস্কফোর্স বর্তমানে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, মেঘনা, কর্ণফুলী ও ভৈরব নদীতে অভিযান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এই কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে।

​গত ১৭ দিনে ৪০৯টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করেছে টাস্কফোর্স। অধিদপ্তর জানায়, ​১০ দিনের কম অপেক্ষায় আছে ২৯২টি জাহাজ।​ ১০ দিনের বেশি অপেক্ষায় আছে ৮৭টি আর ​২০ দিনের বেশি অপেক্ষায় থাকা জাহাজের সংখ্যা ৩০টি।

অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, পণ্য খালাসে স্বচ্ছতা আনতে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ‘লাইটার ভেসেল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ চালু করেছে।

​বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি)- এই সফটওয়্যারে ব্যবহৃত কী সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম লাইটার জাহাজের সিরিয়াল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করবে। এর ফলে একদিকে যেমন ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা তৈরি হবে।

জাহাজ মালিকদের ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করার অনুরোধ করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি আরও বলেন, ​ভোগ্যপণ্য খালাস প্রক্রিয়া এখনো অনেকটা ম্যানুয়াল হওয়ায় কিছু কিছু ঘাটে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) প্রতিটি ঘাটে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হলে জাহাজের আনলোডিং টাইম বা পণ্য খালাসের সময় আরও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যারা সমুদ্র ও নদীতে ভাসমান গুদাম করেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ২০ দিনের বেশি যাদের পেয়েছি তাদের দ্রুত খালি করার নির্দেশ দিয়েছি। গত ৫ দিনে গুদাম করে রেখেছে এমন জাহাজ আমরা পাইনি।

তিনি বলেন, ২০ দিনের বেশি ভাসমান গুদাম রাখায় ১৩টি ভেসেলকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ২টি মামলা প্রসিডিং এ রয়েছে।

এসএম/এএমএ