ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

ব্যাংক-বিমার ঢালাও দরপতন, কমেছে সূচক-লেনদেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে সার্বিক বাজারে পতনের পাল্লা ভারি হয়েছে। ফলে কমেছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্য সূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখীতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু দুপুর ১২টার পর থেকে ব্যাংক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম কমতে থাকে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে ব্যাংক ও বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামে ঢালাও পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২২টির। আর ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং পাঁচটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৫৮ বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৫১টির দাম কমেছে। বাকি ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমার দিনে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৯টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৫৩টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

jagonews24.com

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১ পয়েন্টে নেমে গেছে।

প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৮৭ কোটি ৪১ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭১২ কোটি ৩৪ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ওয়াল্টন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং কে অ্যান্ড কিউ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৫টির এবং ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএমকে