ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে, লেবুর হালি ৬০ টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১১:১০ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কয়েক সপ্তাহ কম দাম থাকার পরে গত সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এদিকে, এ সপ্তাহে রোজার আগে লেবুর দামে দেখা গেছে বড় পরিবর্তন। যদিও অন্যান্য রমজানের সঙ্গে পণ্যের দামে খুব একটা হেরফের চোখে পড়েনি।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অন্য বছরগুলোতে রমজানের মাসখানেক আগে থেকেই কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তবে এবার দাম বাড়েনি, কিছু ক্ষেত্রে উল্টো কমেছে। প্রতি বছর চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের মতো পণ্যগুলো নিয়ে হইচই হলেও এবারে এখন পর্যন্ত সহনীয় রয়েছে।

তবে, কাঁচা বাজারে লেবু ও শসার মতো পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। রমজানের প্রথম দিনই সাধারণত লেবু ও শসার দাম আকাশচুম্বি হয়ে যায়। কিন্তু এবার রমজানের দিন পনের আগেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি হালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও, এই লেবুর দাম সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। আর ছোট আকারের লেবুর হালি ২০ টাকা ছিল, যা এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, শসার দাম আরও আগেই বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। কোথাও কোথাও অবশ্য ৮০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। যদিও প্রতি বছর লেবুর দাম বেড়ে যায় রোজার শুরুতে।

রোজায় সাধারণ মানুষ লেবুর শরবত খেতে পছন্দ করেন। যে কারণে ইফতারে এর চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু একসঙ্গে বিশেষ এই মাসের চাহিদা যোগান দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন হয় না বলে জানা গেছে কৃষি বিভাগ থেকে। যে কারণে অনেক অপরিণত লেবুও সে সময় বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এ দুটি পণ্য ছাড়া বাকি পণ্যগুলোর দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। মাসখানেক আগে ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। এক বছর আগে দাম আরও বেশি ছিল। গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি ছোলা কিনতে ভোক্তার খরচ করতে হয়েছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। গত বছরের একই সময় এ ধরনের ডালের কেজি বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের কেজি গত বছরের এ সময় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

একই পরিস্থিতি রয়েছে চিনির বাজারে। এক মাস আগে চিনির কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। গত বছরের এ সময় এক কেজি চিনি কিনতে ক্রেতাকে গুণতে হয়েছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।

অন্যদিকে, এখন পেঁয়াজের বাজারও স্বাভাবিক। মাত্রই মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে, এ কারণে দামও সহনীয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, ভোজ্যতেলের বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকা দরে।

ডিমের দাম আরও কমেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে। তবে, বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। যা আগে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কম ছিল। একইসঙ্গে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শবে বরাতের আগে ২৮০-৩০০ টাকা ছিল এসব মুরগি।

এনএইচ/এএমএ