পে কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে সুপারিশ দিতে কমিটি
ফাইল ছবি
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশের জন্য জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদনের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, এই কমিটির বিষয়ে শিগগির গেজেট প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠন করা এই কমিটির সদস্য হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগগের সচিব, হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে (সিজিএ) রাখা হয়েছে।
এ কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
আরও পড়ুন
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ রেখে যাবে সরকার: উপদেষ্টা
যমুনা অভিমুখী মিছিলে পুলিশের বাধা, আহত ৬ কর্মচারী ঢাকা মেডিকেলে
প্রতিবেদন পাওয়ার পর পে-স্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা
গত বছরের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশন সরকারি চাকুরেদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে।
কমিশনের সুপরিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম ধাপে বেতন হবে ২০ হাজার টাক। আর সর্বোচ্চ প্রথম ধাপে (১ম গ্রেডে) বেতমন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিভিন্ন রকমের পর্যালোচনা শেষে বেতন স্কেলের গ্রেড বা ধাপ চলমান পে স্কেলের মতই ২০টি গ্রেডই রাখার প্রস্তাব করেছে।
জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর করার সুপরিশ করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতদিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়নোর সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৭৫ শতাংশ। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৫৫ শতাংশ। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।
প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। এদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
কমিশন ১ম গ্রেডের মূল বেতন (নির্ধারিত) বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ২য় গ্রেডের ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডের ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ৪র্থ গেড্রের ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫ম গ্রেডের ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা সুপারিশ করেছে।
এছাড়া ষষ্ঠ গ্রেডের ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেড্রের ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা, ৮ম গ্রেডের ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ৯ম গ্রেডের ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ম গ্রেডের ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, ১১তম গ্রেডের ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডের ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, ১৪তম গ্রেডের ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডের ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডের ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭ তম গ্রেডের ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮তম গ্রেডের ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, ১৯তম গ্রেডের ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এমএএস/ইএ
সর্বশেষ - অর্থনীতি
- ১ ফেব্রুয়ারির প্রথম সাতদিনে প্রবাসী আয় ৯৬৭৫ কোটি টাকা
- ২ পে কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়ে সুপারিশ দিতে কমিটি
- ৩ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, শুল্ক আরও কমার আশা
- ৪ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে কোনো চুক্তি হচ্ছে না
- ৫ মূল্যস্ফীতি ফের বেড়ে ৮.৫৮%, নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়লো