ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

এখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সব সেবা ডিজিটাল: বন্দর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম | প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা পুরোপুরি ডিজিটাল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস ও পোর্ট সংক্রান্ত সব সেবার জন্য পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই) চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের অটোমেশনের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করছি। চুয়েট অত্যন্ত সহযোগিতা করেছে। পুরো টিম এ জটিল কাজটি সময়মতো সুচারুরূপে করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে পৃথিবীর সব পোর্ট ডিজিটাল, অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল করিডোরে যে ট্রানজেকশন হচ্ছে লজিস্টিক সেক্টরে- সেটি থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। আমরা এখন থেকে কাগজের নথিও দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, আমাদের তো টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম আছে, এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আছে। কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি আমাদের পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না। একটা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে পুরো দেশের জন্য। সেটি এনবিআর করছে। আরেকটি মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে। ডিজি শিপিং করছে। আমরা যেটি করেছি সেটি হচ্ছে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম। এখানে সব সংস্থা সংযুক্ত, এক প্লাটফর্মে এসেছে। আগে যে কাজগুলো ফিজিক্যালি করতে হতো, টেবিলে, ডেস্কে, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডের কাছে যেতে হতো- এখন এই কাজগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হচ্ছে। যার ফলে আগে যে কাজে পাঁচ দিন লাগত এখন তা আধঘণ্টায় হবে।

আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল 
চট্টগ্রাম বন্দর: আন্দোলনকারী ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল 

এতে সময় বাঁচবে এবং কাজে গতি আসবে জানিয়ে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের মুভমেন্ট কমে যাবে, গ্রিন পোর্ট হবে। এটা বড় ধরনের মাইলফলক। সারা পৃথিবী জেনে যাবে আমাদের চট্টগ্রাম পোর্ট ডিজিটাল পোর্ট হয়ে গেলো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্লাটফর্মে, ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে আমরা ডাইরেক্ট কানেক্টেড হলাম। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কাজগুলো এটার মাধ্যমে করা যাবে। প্রিঅ্যারাইভাল প্রসিডিওর হবে।

তিনি বলেন, আগে আমদানি পণ্য দেশে আনার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। কাস্টমস ফরমালিটি, গেটপাস করে ডেলিভারি হতো। এখন লোড পোর্ট থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে হবে। আর কোনো টেনশন থাকলো না। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন যেখান থেকে ইচ্ছে কাজগুলো করা যাবে। আমাদের অফিসিয়াল ফাংশন হবে ডিজিটাল। আমরা পেপারলেস হয়ে যাবো। আমি বলে দিয়েছি, আমি টেবিলে পেপার দেখতে চাই না। আর কিছু দিন সময় লাগবে অভ্যস্ত হতে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সিস্টেমে অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত হবে। আগে অ্যাকাউন্টেবিলিটির প্রশ্ন থাকতো, অনেক সময় মিস ম্যানেজমেন্ট হতো, ডেলিভারি ডিলে হতো- এ কারণে ভোক্তারা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। এখন আমাদের কার্গো, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমসহ টোটাল প্রোডাক্টিভিটি এখন যা আছে সবই বেড়ে যাবে। এ প্লাটফরম ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিলো। যার সুফল ৫০ থেকে ১০০ বছর এ দেশের মানুষ পাবেন।

এসময় সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদার, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকসহ বন্দরের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এমডিআইএইচ/কেএসআর