কিছুটা কমেছে লেবু-কাঁচা মরিচের দাম, শসা চড়াই
সরবরাহ কিছুটা বাড়া এবং চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় লেবু-কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের/ছবি: জাগো নিউজ
রোজার শুরুতে রাজধানীর বাজারগুলোতে হুট করে বেড়ে যাওয়া লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। এক পিস লেবুর দাম ৪-৭ টাকা কমেছে। কাঁচা মরিচের দামও এক পোয়ায় (২৫০ গ্রাম) কমেছে ১০ টাকা। তবে শসা আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও এবং মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কিছুটা বাড়া এবং চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে।
তবে দাম কিছুটা কমলেও লেবুর দাম নিয়ে এখনো অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক পিস লেবু ১৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা কিছুতেই স্বাভাবিক না। সরকারের উচিত দ্রুত বাজারে তদারকি বাড়ানো। কেউ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর হালি (৪টি) বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গতকাল যা ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে এক হালি লেবুর দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
একইভাবে কাঁচা মরিচের দামেও কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৫০ টাকা, আজ তা কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ পোয়াতে কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ১০ টাকা।
এদিকে শসার বাজার এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। দেশি শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। হাইব্রিড শসার কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবারও এই দামে শসা বিক্রি হয়।
খিলগাঁও তালতলার সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, কাঁচা মরিচ ও লেবুর দাম কমেছে। গতকাল যে কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা পোয়া বিক্রি করেছি, আজ তা ৪০ টাকা বিক্রি করছি। আর গতকাল যে লেবুর হালি ৮০ টাকা বিক্রি করেছি আজ তা ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার আগের দামই রয়েছে। হাইব্রিড শসার কেজি ১২০ টাকা এবং দেশি শসা ১৫০ টাকা কেজি।
তিনি বলেন, পাইকারিতে লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম কমায় আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। দাম বেড়ে যাওয়ায় কারণে লেবুর বিক্রি কমে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে লেবু আছে, রোজার কারণে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন বিক্রি কম হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। আমাদের ধারণা এখন লেবুর দাম কমতে থাকবে।
আরও পড়ুন
রোজা শুরুর আগেই লেবুর হালি ১০০ টাকা
রমজানে চড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, নাকাল ক্রেতারা
দাম বেড়েছে ‘কম দামি’ খেজুরের
শসার দামের বিষয়ে এই বিক্রেতা বলেন, এখন শসার মৌসুম না, এ কারণে দাম বেশি। তাছাড়া রোজায় শসার চাহিদা বেশি থাকে, এ কারণেও দাম বাড়ে। আমাদের ধারণা শসার দাম আরও কিছুদিন এমন থাকবে।

দোকানটি থেকে লেবু ও শসা কেনা আতিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এক কেজি দেশি শসা ১৫০ টাকা, এটা কিছুতেই স্বাভাবিক না। রোজার কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীলদের উচিত দ্রুত বাজারে তদারকি বাড়ানো। তদারকি বাড়ালে দাম কমে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, এখন একটি রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এই সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সবার আগে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলেই সাধারণ মানুষ খুশি থাকবে।
খিলগাঁও থেকে মালিবাগে গিয়েই লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচ একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে একটু বড় লেবু কিছু ব্যবসায়ী ৭০ টাকা হালি বিক্রি করছেন।
লেবুর হালি ৭০ টাকা বিক্রি করা রহিম মিয়া বলেন, গতকাল এই লেবু ১০০ টাকা হালি বিক্রি করেছি। আজ ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একদিনে এক হালির দাম ৩০ টাকা কমেছে। চাহিদা কম থাকায় লেবুর দাম এমন কমেছে। এমন বিক্রি কম হলে লেবুর দাম আরও কমতে পারে।
শসার দামের বিষয়ে এই বিক্রেতা বলেন, প্রতি বছর রোজায় শসার চাহিদা বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শসার চাহিদা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কম। কারণ এখন শসার মৌসুম না। এখন কেবল শসা উঠতে শুরু করেছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাবে, তখন দামও কমবে।
মালিবাগে বাজার করতে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, কাঁচা মরিচের যে দাম তাকে স্বাভাবিক বলা যায়। তবে শসা ও লেবুর দাম কিছুতেই স্বাভাবিক না। কিছুটা দাম কমলেও এখনো লেবুর হালি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এটা কীভাবে স্বাভাবিক হয়? আমার মতে লেবুর ডজন ৬০ টাকা এবং শসার কেজি ৫০-৬০ টাকা হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, প্রতি বছর রোজা এলেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। আসলে বাজারে কার্যকর মনিটরিং নেই। এর সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। যাদের টাকা আছে তাদের জন্য এটা হয়তো কষ্টকর হচ্ছে না, নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে।
রামপুরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সুমি আক্তারও প্রায় একই ধরনের কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের চাওয়া-পাওয়া কম। কম দামে জিনিস কিনতে পারলেই আমরা খুশি। একটা লেবু ১৫-২০ টাকা দিয়ে কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। একইভাবে এক কেজি শসা ১২০-১৩০ টাকা, এত দামে কীভাবে কিনে খাবো?
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, হুট করে লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ লেবু কেনা কমিয়ে দিয়েছে। আবার দাম বেশি পাওয়ার কারণে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বাতি (পুরিপুষ্ট) হওয়ার আগেই লেবু বিক্রি করে দিচ্ছেন। একদিকে বিক্রি কমেছে, অন্যদিকে সরবরাহ বেড়ে গেছে, যে কারণে লেবুর দাম কমতে শুরু করেছে।
শসার দামের বিষয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, শসার দাম কমতে মনে হয় একটু সময় লাগবে। কারণ এখন বাজারে শসার সরবরাহ কম। সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে যাবে।
এমএএস/ইএ