ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

১০’র কাছাকাছি পিই, ব্যাংক-জ্বালানি তলানিতেই 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে মন্দা থাকায় দেশের শেয়ারবাজারের সার্বিক মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৮-এর ঘরে নেমে এসেছিল। তবে চলতি বছরে শেয়ারবাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পিই অনুপাত প্রায় ১০ এর কাছে চলে এসেছে। অবশ্য এরপরও অবমূল্যায়িত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ব্যাংক এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি নির্ণয়ের যে কয়টি হাতিয়ার রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হাতিয়ার মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও। সাধারণত ১০-১৫ পিইকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত ধরা হয়। আর কোনো কোম্পানির পিই ১০-এর নিচে চলে গেলে, ওই কোম্পানির শেয়ার দাম অবমূল্যায়িত বা বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ধরা হয়।

বর্তমানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পিই ৯ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই পিই ছিলো ৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ চলতি বছরে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।

সার্বিক শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত অবস্থায় থাকলেও পিই বিবেচনায় কয়েকটি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে সিরামিক ও চামড়া খাত। বর্তমানে পিই সব থেকে বেশি সিরামিক খাতের। এ খাতের পিই ১৩৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট, ২০২৫ সাল শেষে এই খাতের পিই ছিল ৮৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর চামড়া খাতের পিই ৪৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা ২০২৫ সাল শেষে ছিল ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরে চামড়া খাতের পিই কমেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে সব থেকে কম পিই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের। এ খাতের পিই ৫ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট। ২০২৫ সাল শেষে এই খাতের পিই ছিলো ৪ দশমিক ২৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ চলতি বছর এই খাতের পিই কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো বেশ অবম্যূায়িত অবস্থায় রয়েছে খাতটি।

সব থেকে কম পিই’র তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এ খাতের পিই দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। ২০২৫ সাল শেষে এ খাতের পিই ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট। অর্থাৎ চলতি বছরে ব্যাংক খাতের পিইও কিছুটা বেড়েছে।

এছাড়া ওষুধ খাতের পিই ৯ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১০ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট হয়েছে। আর আর্থিক খাতের পিই ৯ দশমিক ৬২ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের পিই ৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের পিই ১০ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতের ১১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট, সেবা খাতের ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতের ১২ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

টেলিকম খাতের পিই ১২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, ভ্রমণ খাতের ১২ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, বিমা খাতের ১৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৬ দশমিক ৩১ পয়েন্ট, আইটি খাতের ১৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট হয়েছে।

এছাড়া বিবিধ খাতের ১৫ দশমিক ১২ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ২৭ পয়েন্ট, খাদ্য খাতের ১৬ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট, কাগজ ও মুদ্রণ খাতের পিই ২১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ২৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট এবং পাট খাতের পিই ২৬ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট থেকে কমে এখন ১২ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এমএএস/এমএমকে