ইরানে হামলা: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যাচ্ছে। লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমে যাওয়া সূচকের বড় পতন হয়েছে।
আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ বাড়ালেও, ক্রেতাদেরও সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ফলে সূচকের বড় পতনের পর, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অবশ্য ক্রেতাদের থেকে বিক্রেতাদের চাপ বেশি থাকায় সূচক বড় পতনের মধ্যেই আছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারেও।
তাদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির চাপ না বাড়ালে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়।
এমন পতনের পর বাজারে কিছু ক্রেতাদের সংক্রিয় হতে দেখা যায়। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মাত্র কমে আসে। ফলে সূচকের পতনের মাত্রাও কমে। ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০০ পয়েন্ট উদ্ধার হয়।
অবশ্য বাজারে সার্বিকভাবে ক্রেতার থেকে বিক্রেতার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে বড় পতনের মধ্যেই রয়েছে শেয়ারবাজার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মাত্র ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫১টির। আর ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট কমেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৪ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসেন। ফলে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তিনি বলেন, ইরানে হামলার পর তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব আশঙ্কা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
এসব আশঙ্কা থাকলেও যে কোনো সময় বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি। ডিএসইর এই সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায়। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিক্রির চাপ না বাড়ালে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির ভয়াবহ চাপ তৈরি করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।
একটি ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এখন আতঙ্কে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কারণ, অনেক সময় এমন তাৎক্ষণিক পতন পরবর্তীতে আংশিকভাবে কাটিয়েও ওঠে।
এমএএস/এসএনআর