ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ২২ মার্চ ২০২৬

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই এটিকে লাভজনক আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ছাড়া বিনিয়োগ করলে লাভের পরিবর্তে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিনিয়োগের আগে কিছু মৌলিক বিষয় বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে তার আর্থিক ভিত্তি যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের আয়, মুনাফা, ঋণের পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত। নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান এবং স্থিতিশীল মুনাফা অর্জনকারী কোম্পানিতে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

একই সঙ্গে বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এসব সূচক বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের সঠিক সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সব অর্থ এক কোম্পানি বা এক খাতে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দিলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ পদ্ধতিকে ডাইভারসিফিকেশন বলা হয়, যা বিনিয়োগকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখে।

গুজব বা অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় বাজারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়, যা বড় ধরনের লোকসানের কারণ হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
মন্দার শেয়ারবাজার ঈদের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়
এ যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ ১০ লাখে দুই মাসে মুনাফা কোটি টাকা!
শেয়ারবাজারে ফিরছে বিদেশিরা, সক্রিয় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও

বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোম্পানির শেয়ার সাধারণত ইতিবাচক রিটার্ন দেয়। তাই ধৈর্য ধরে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিনিয়োগ করলে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, পরিকল্পিত ও তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগই শেয়ারবাজারে সফলতার চাবিকাঠি। সচেতন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন পেতে পারেন।

তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে তার স্পন্সর ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, সততা এবং অতীত কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা জরুরি। কারণ ম্যানেজমেন্টের গুণগত মান কোম্পানির ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এছাড়া কোম্পানিটি যে খাতে ব্যবসা করছে যেমন- ব্যাংকিং, ট্যানারি বা টেক্সটাইল সেই খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত। খাতটি দুর্বল হলে ভালো কোম্পানিও প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স, নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান, আয়ের প্রবৃদ্ধি, ম্যানেজমেন্টের আচরণ এবং কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না এসব বিষয় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারকে ব্যাংকের মতো নিরাপদ মনে করেন, যা সঠিক নয়। ব্যাংকে আমানতের নিরাপত্তা থাকলেও শেয়ারবাজারে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অল্প সময়েই বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি বলেন, অন্যের পরামর্শ বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা বাংলাদেশের অনেক বিনিয়োগকারীর সাধারণ প্রবণতা, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পর দেরিতে প্রবেশ করাও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত শেয়ার কেনাবেচা করতে হলে বাজার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন। যারা তা করতে পারবেন না, তাদের জন্য অতিরিক্ত ট্রেডিং ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি- উল্লেখ করেন ডিবিএ সভাপতি।

উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার প্রবণতাকেও ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের বিনিয়োগে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।

এমএএস/ইএ