ঈদের পরও কমেনি মাংস-সবজির দাম
ঈদের পরদিনও সবজির বাজার আগের মতই চড়া/ছবি: জাগো নিউজ
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ। এতে প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে মহানগরী। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ঈদের পরদিন বাজারে বেশ ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। একদিকে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন কম, অন্যদিকে অনেক দোকানপাটও বন্ধ। তবে বাজারে দামে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ঈদের আগের মতই অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর ও মুরগির মাংসের দাম। একই সঙ্গে চড়া সবজির বাজারও, ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি।
রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, তালতলা, শেওড়াপাড়া, মাটিকাটাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে কার্টনের সঙ্গে অন্য পণ্য নেওয়ার শর্তে মিলেছে সয়াবিন তেল। ঈদের পর পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। এছাড়া সালাদের আরেক উপকরণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকা, প্রতি কেজি গোল কালো বেগুন ১১০-১২০ টাকায়, গোল সাদা বেগুন ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, সিম ও পটল ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, ঢাকার বাইরে থেকে সবজির ট্রাক আসছে কম। পাইকারিতে চড়া দাম হওয়ায় খুচরায়ও সবজির দাম বাড়তি।
তালতলা বাজারে কথা হয় ক্রেতা মাইনুদ্দিন রাব্বানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সবজির দাম আগের মতই চড়া। ঈদের আমেজে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর একটা অভ্যাস আছে ব্যবসায়ীদের। এখনো ঈদ আমেজে সবজির দাম চড়া।

ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকে সয়াবিন তেলের ‘সংকট’ দেখা গেছে বাজারে। কোনো কোনো দোকানে প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন দোকানিরা। আবার কেউ কেউ এক বোতলের বেশি বিক্রি করছেন না। সয়াবিন তেলের এক লিটারের বোতলের গায়ের মূল্য ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। আর পাঁচ লিটারের ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, সয়াবিন তেল নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা আছে। ডিলাররা চাহিদা মতো তেল দিচ্ছেন না। আবার কখনো শর্ত দিয়ে তেল বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন
গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকা, চড়া মসলার বাজারও
মুরগির বাজারে অস্থিরতা, খামারিদের ছয় দফা দাবি
মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি মাসুদ বলেন, ঈদের পর ডিলাররা আসেননি। তেল নিয়ে কী হবে বুঝতে পারছি না।
আরেক বিক্রেতা বলেন, ঈদের আগে শর্ত মেনে তেল নিতে হয়েছে। মানে ১ লিটারের এক কার্টনের সঙ্গে কোম্পানির অন্য পণ্য নিতে হয়েছে।
সবুজ নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, আমাদের গায়ের রেটে কিনতে হয়েছে। তখন তেল কম নিয়েছি, চেনাজানা কাস্টমারের কাছে তেল বিক্রি করেছি। ঢাকায় সবাই ফিরলে তেলের চাহিদা বেড়ে যাবে।
এদিকে ঈদের পরদিনও গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮১০ থেকে ৮৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে গরুর দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দামও কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।
এদিন বাজারে বেশিরভাগ মাছের দোকানই বন্ধ দেখা গেছে। দুই-একটি দোকান খোলা থাকলেও সেভাবে ক্রেতা দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৬০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাঁদরাত থেকে দাম আরও বাড়ে। ঈদের এক-দুই দিন আগে যেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৯০–৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে চাঁদরাতে তা বেড়ে যায় ৫০-৬০ টাকা।
এসএম/ইএ