সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন
ফাইল ছবি
ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরপরও কমেছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এর আগে ঈদের ছুটি শুরুর আগে শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবস মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে দরপতন হয়।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে শেষ ঘণ্টার লেনদেনে দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১০২টির। আর ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৬টির দাম কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ১৯টি মিউচুয়াল ফান্ডেরই দাম বাড়ার বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাভেলো আইসক্রিম, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং রানার অটোমোবাইল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এমএএস/এমকেআর