ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

এনবিআর কর্মকর্তা ও করদাতা লাভ নিয়ে বের হয়ে যান, ঠকে যায় সরকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬

কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা ও করদাতারা লাভবান হলেও সরকার ঠকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে এ ব্রিফিং হয়।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, এনবিআর কর্মকর্তাদের বড় সমস্যা হলো তারা তাদের হাতে থাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছাড়তে চান না। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থায় গেলে এই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এতে অনাগ্রহী।

‘করদাতা সবার অভিযোগ- ইন্সপেক্টর বা কমিশনাররা যে ক্ষমতা রাখেন, সেই ক্ষমতার তারা অপব্যবহার করেন। ওই যে (কর) আদায় কম হয়, আমরা তো সবাই জানি তা তিন ভাগ হয়। যে করযোগ্য আয় আছে তার এক তৃতীয়াংশ যায় যারা আদায় করেন তাদের কাছে। এক তৃতীয়াংশ যায় সরকারের কাছে। বাকি এক তৃতীয়াংশ যার দেওয়ার কথা তিনি দেন না। তো সবাই লাভ নিয়ে বের হয়ে যায়, ঠকে যায় সরকার,’ যোগ করেন তিনি।  

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা
জ্বালানি খাত বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মত দেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামষ্টিক অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন জরুরি। দেশের আর্থিক সক্ষমতা, ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতা ও বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির অবস্থা পরিষ্কারভাবে নিরূপণ না করে জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভুল পথে যেতে পারে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় যদি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সমন্বয়ের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈদেশিক সম্পর্ক কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে তা রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তিনি তিনটি দিক তুলে ধরেন- আমদানি ও সরবরাহ বৃদ্ধি, শুল্ক কমানো এবং প্রয়োজনে দাম বৃদ্ধি। তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে এবং অন্যান্য জ্বালানির দামও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির ফলে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তির অধীনে প্রতিযোগিতায় নেই বা বাজার প্রতিযোগিতায় নেই এমন অর্থনীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে কি না; বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া থেকে আমাদের অন্যান্য সরবরাহ আনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হয় কি না এটা এখন সরকারের বিবেচ্য বিষয়। অর্থনীতির সঙ্গে বৈদেশিক নীতি যুক্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা আছে।’

বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করেন, বৈদেশিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় হতে পারে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এর ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে, যা টাকার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়াবে।

এছাড়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাব্য অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই ওই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে সেখানে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও চাপে পড়তে পারে।

এসএম/একিউএফ