ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

কৃষিপণ্যে উৎসে কর অব্যাহতি চায় বাপা, ভ্যাট কমানোর জোর দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

কৃষিপণ্য সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। এছাড়া ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে একক ডিজিটে করা, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাটের হার ৭.৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা, ৫০ শতাংশ বেশি অব্যাহতি পাওয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

এছাড়া মিনারেল ওয়াটার (তিন লিটার পর্যন্ত) থেকে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাপা। এ বিষয়ে সংগঠনটি জানায়, বড় শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস মিনারেল ওয়াটার। মিনারেল ওয়াটার কোনো বিলাসী পণ্য নয়। এটা জরুরি পণ্য। এই পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা কেবল অযৌক্তিক নয়, অন্যায়ও বটে।

সংগঠনটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিরীক্ষা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সাময়িক প্রাপ্যতা অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া মাসভিত্তিক বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ইউপি অনুমোদন ও ভিন্ন ভিন্ন কমিশনারেটের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বন্ড সুবিধা প্রদান করাত প্রস্তাব করা হয়।

সব শুনে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বাপার সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবে এনবিআর।

এদিকে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাজেট প্রস্তাবে টার্নওভার কর কমানোর দাবি জানায়। এছাড়া সংগঠনটি করপোরেট কর কমানো ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করে সংগঠনটি।

এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, টার্নওভার কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রচণ্ড চাপ আছে। এই বছর এটাকে বাড়িয়ে আড়াইগুণ করার জন্য প্রচণ্ড চাপ আছে আমাদের ওপর। ১% কে ২.৫% করা এবং অ্যাক্রস দ্য বোর্ড সবার জন্য। তো সেটাও আমরা উইথস্ট্যান্ড করার চেষ্টা করতেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে একমত, এটা না করে যদি পারি চেষ্টা করবো। কিন্তু কমানো খুব ডিফিকাল্ট।

jagonews24এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান

আবদুর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ট্যাক্সেশন লিটারেচার বলে যে কোম্পানিগুলোর প্রফিটের ওপর ট্যাক্স হবে। প্রফিট না হলে টার্নওভারের ওপর ট্যাক্স দিলে সেটা ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স হয়ে যায়, এটা সত্য কথা। আবার এটা করতে আমরা বাধ্য হয়েছি যেহেতু আমাদের ওভারঅল ট্যাক্স কালেকশন অনেক কম। আমাদের কালেকশন বাড়াতে হবে, যেটার কাজ করে আমরাও পরিষ্কার না। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যেহেতু আমাদের সব জায়গাতেই রিপোর্টিং, হিসাব-নিকাশ দেখানো—এর মধ্যে গ্যাপ আছে, সে কারণেই এরকম একটা শর্টকাট পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

‘একটা গবেষণা কখনো হয় না। আমরা ট্যাক্স কমালাম, সরকার ট্যাক্স কমে ফেললো। এই যে কর অব্যাহতিগুলো আমরা দেই, তার সুবিধা জনগণের কাছে যায় কি না, সেটাও একটু আপনাদের এনশিওর করতে হবে। সরকার আমাদের কিছু ছাড় দিয়েছে, তার বিপরীতে আমরা মানুষকে কমদামে সার্ভিস দিচ্ছি। সেটা কিন্তু সহসা হয় না। সাধারণের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে, সরকার যেই ট্যাক্স এবং ভ্যাট সুবিধা দেয়, সেটার সুবিধা আলটিমেটলি জনগণের কাছে পৌঁছে না; এটা মাঝখানে বিভিন্ন জায়গায় হাতবদল হয়ে যায়। এটাও একটু খেয়াল করতে হবে ‘ যোগ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এদিকে বাংলাদেশে অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন স্থানীয়ভাবে বালাইনাশক উৎপাদন ও রপ্তানি করতে প্রয়োজনীয় ৩২টি কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করেছে। আর ফল আমদানিতে করহার কমানোর প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে করহার কমানোর প্রস্তাব করে। বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন কাস্টমস ট্যারিফের সাব হেডিং নোট-২ এর অধীন কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক পণ্যের আগাম কর অব্যহতি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত বালাইনাশকের ওপর শুল্ক ও কর হ্রাস, আমদানিমূল্য অনুযায়ী বালাইনাশক পণ্যের ট্যারিফমূল্য নির্ধারণ, বালাইনাশক ফরমুলেশনে ব্যবহৃত সহযোগী উপদানসমূহের সমুদয় কর অব্যহতি, জৈব বালাইনাশক, ফল উৎপাদনে ব্যবহৃত ফ্রুট ব্যাগ, স্টিকি ট্র্যাপ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের ওপর আরোপিত শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে।

ব্যবসায়ীরা ভ্যাট রিফান্ড পান না বলে অভিযোগ করেন। জবাবে আবদুর রহমান খান বলেন, আপনাদের অনেক টাকা আটকে গেছে, ফেরত পান না, যে অভিযোগ করেছেন। আমরা এই জায়গাটাতে বড় একটা কাজ করছি। আপনারা যাতে করে অটোমেটিক্যালি ফেরত পান—আমাদের যেহেতু রিটার্নগুলোকে এখন অনলাইন করছি, আপনাদের রিফান্ড সিস্টেমও আমরা অনলাইন করছি। এখানে ভ্যাটের রিফান্ড কিন্তু অলরেডি পাওয়া শুরু হয়ে গেছে। অনলাইনে অটোমেটেড পদ্ধতিতে। ইনকাম ট্যাক্সেরটাও আমরা প্রায় কমপ্লিট, এটা যে কোনো সময় ট্রায়াল রান হচ্ছে। এগুলো যখন হয়ে যাবে তখন আমরা আপনাদের ফেরত দিয়ে দেবো, একদম আপনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। মানে এটাকে ডিসিপ্লিন করার জন্য আসলে আমরা আপাতত কিছুদিন ধরে রিফান্ড দিচ্ছি না, বাট এটা আলটিমেটলি আপনারা পেয়ে যাবেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অ্যাসেসমেন্টের সময় আপনাদের গ্রস প্রফিটের যে ডিফারেন্স হয় বিভিন্ন রকম—এটাও আমি বলবো আমাদের ট্যাক্স পলিসি মেম্বারকে ছোট একটা গ্রুপ তৈরি করে সমাধান দিতে। সেই ৫৪ সালের যে সার্কুলার আছে, সেটাকে এখনো মানা হচ্ছে, কোনো লিগ্যাল বেসিসও নেই। আমার মনে হয় এটাকে আমরা আইনের মধ্যেও নিয়ে আসতে পারি। যদি আমাদের এটা বলে দিতে হয় যে একটা স্ট্যান্ডার্ড রেট তারা ফলো করবে—কম বেশি যাদের হিসাব নেই। অ্যাকচুয়ালি গ্রস প্রফিটটা হয় হচ্ছে যাদের হিসাব নেই। আর যাদের হিসাব আছে তাদের কিন্তু এই ধরনের পার্সেন্টেজ করা যায় না। তো এটা একটু ঠিক করে দেওয়া যে আরও ব্যাপক করে। এটা আমার মনে হয় সময়ের দাবি। কারণ যেগুলোতে অডিট হয় ট্যাক্সপেয়ারদের বিরাট রকমের সমস্যা হয়। উনারা বলেন একরকম গ্রস প্রফিট, আমাদের এখানে আবার অন্যরকম ধরে। এগুলো আপিলে যায়, ট্রাইব্যুনালে যায়। এগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে এটা অনেক ইজি হয়ে যাবে। এটা আমরা করবো।

​তিনি বলেন, ভ্যালুয়েশনের কমপ্লেইন আমরা আর শুনতে চাই না এবং এই জায়গাতে আমরা একটা বড় কাজ করছি। ইভেন আপনাদের অন্যান্য জায়গাতেও—আমাদের কাস্টমস যে এক্সামিনেশনগুলো করে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা এটাকে ট্রান্সপারেন্ট করার জন্য রিস্ক-বেসড সিলেকশন করছি। এখন পর্যন্ত আমরা করতে পারি নাই। এটা আমরা খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এটা যদি হয়ে যায়, তাহলে দেখবেন আপনাদের কাস্টমসের ওখান থেকে আপনারা আরও দ্রুত রিলিফ পাবেন।

এসএম/বিএ