ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

পিএমআইয়ের প্রতিবেদন

মার্চ মাসে দেশের উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে সংকোচন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

চলতি বছরের গেলো মার্চ মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি কিছুটা সম্প্রসারণে থাকলেও উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে উল্লেখযোগ্য সংকোচন পরিলক্ষিত হয়েছে। বিষয়টিকে অর্থনীতির জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) এ তথ্য উঠে এসেছে। মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পিএমআইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পিএমআই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করে থাকে, যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকেরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

মার্চ মাসে পিএমআই সূচক ৫৩ দশমিক ৫-এ নেমে এসেছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উৎপাদন খাত, যা গত ১৮ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণে ছিল, মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো সংকোচনের মুখে পড়ে। নতুন অর্ডার ও রপ্তানি হ্রাস, সমাপ্ত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া, আমদানি কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানে পতনের কারণে এই খাতটি চাপের মধ্যে পড়ে। যদিও কারখানা উৎপাদন, ইনপুট ক্রয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কিছু সূচকে এখনো সম্প্রসারণ বজায় রয়েছে। তবুও সামগ্রিকভাবে উৎপাদন খাতের এই পতন শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে নির্মাণ খাত টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সংকোচন রেকর্ড করেছে, যেখানে নতুন ব্যবসা ও নির্মাণ কার্যক্রমে স্পষ্ট পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগের ধীরগতি, সতর্ক ক্রেতা আচরণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব—এই খাতের দুর্বলতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্বল অর্ডার প্রবাহ, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এই দুই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ছুটি ও মৌসুমি প্রভাবও উৎপাদন ও নির্মাণ কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উচ্চ ব্যয়, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে আগামী মাসগুলোতে ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিষেবা খাত ধারাবাহিকভাবে ১৮তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। মার্চে প্রবৃদ্ধির গতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, ইনপুট খরচ এবং অর্ডার ব্যাকলগ—সবগুলো সূচকেই সম্প্রসারণ দেখা গেছে।

আগামী দিনের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা—অর্থনীতির সব প্রধান খাতেই সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ব্যবসায়িক আশাবাদের প্রতিফলন।

উত্তরদাতাদের মতে, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলোতে ব্যবসায়িক পরিবেশ মিশ্র অবস্থায় রয়েছে, যেখানে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মৌসুমি চাহিদা কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে উচ্চ ব্যয় এবং অনিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। পরিষেবা ও খুচরা খাতে উৎসবকালীন চাহিদার কারণে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন ও ইউটিলিটি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মুনাফার ওপর চাপের কথা উল্লেখ করেছে। তবে অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মার্চ মাসের পিএমআই সূচকগুলো ইঙ্গিত করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হচ্ছে, যা প্রধানত উৎপাদন খাতের মন্দার কারণে হয়েছে। দীর্ঘ ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটজনিত বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা এই খাতে প্রভাব ফেলেছে। চলমান সংঘাতের ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের ঝুঁকি তৈরি হয়ে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা আরও দুর্বল হয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

আইএইচও/এমএমকে