দরপত্র ছাড়াই ইউনিসেফ থেকে কেনা হচ্ছে ৪২১ কোটি টাকার টিকা
ফাইল ছবি
নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রাখতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ থেকে ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকার টিকা কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই টিকা কিনতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
ইউনিসেফ থেকে ইপিআই টিকা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার পাশাপাশি চাঁদপুর ও ভোলায় সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ইউনিসেফের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
কিন্তু উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও খোলা বাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না এবং ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
এ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন (ভিটামিন ‘এ’ পঞ্চাস ক্যাপসুল এবং কৃমিনাশক ট্যাবলেট) উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, এ বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় সীমা ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় বা সংগ্রহ সব ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং ক্রয় করা ভ্যাকসিনের ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।
এদিকে বৈঠকে, ‘কন্সট্রাকশন অব ব্রিজ ওভার দি রিভর মেঘনা অন শরীয়তপুর-চাঁদপুর রোড’ প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের প্রায় ৩০টি জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
এ প্রকল্পের আওতায় ৮.০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু (৪-লেন), উভয় পাশে ৮.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক এবং ৯.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে। প্রস্তাবিত সেতুটির মূল স্প্যান হবে ৭০০ মিটার। সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩২ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার ২৪২টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬১ সালে ৪৫ হাজার ১৫০টি যানবাহন চলাচল করবে।
বৈঠকে সেতু বিভাগের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর এবং তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা ব্রিজ’ প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি প্রহণ করা হয়।
এ প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু (৪-লেন) এবং ১৮.০৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে। সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজি স্থানান্তর বাবদ সব ব্যয় জিওবি খাত থেকে নির্বাহ করা হবে।
এমএএস/এমকেআর