যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয়, ফের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। তবে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে আবার বড় দরপতন হয়ছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।
এর আগে ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু যুদ্ধতিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল ব্যাপক বোমা হামলা চালায় লেবাননে। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আবার সংশয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে বড় উত্থানের পর শেয়ারবাজারে আবার বড় দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার পর্যালোচনা দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৬টির। আর ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৩টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯২টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে এবং ২৭টির দাম কমেছে ও ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইড শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার। ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সিটি ব্যাংক, কেডিএস এক্সসরিজ, মনোস্পুল বাংলাদেশ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং বিডি অটোকার।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৭টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী শান্তি ফিরবে এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। যে কারণে বুধবার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। কিন্তু ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবাননে হামলা করে আবার অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ করে দেয়। এতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আবার সংশয় দেখা দেয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আবার বাড়তে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় আজ শেয়ারবাজারে আবার দরপতন হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি যদি কার্যকর হয়, শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নিশ্চয়তা চাই। ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা না। এটা পুরো বিশ্বের সমস্যা।
এমএএস/এমআইএইচএস