নদী সাগর মানুষের চাপে বিপন্নের পথে ইলিশ
ইলিশ উৎপাদনের চিত্র-এআই নির্মিত ছবি
ইলিশ উৎপাদনে ধাক্কা লেগেছে। মাছের আকারও দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। দূষণ ও নাব্য সংকটে এ দেশের জলসীমার মাছ চলে যাচ্ছে ভিন্ন গন্তব্যে। এসব কারণে এখন ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের পাতে উঠছে না স্বপ্নের ইলিশ। দিন দিন রুপালি এ মাছটি যেন পুরোনো ‘দুর্লভ’ পথে হাঁটছে।
তথ্য বলছে, একসময় দেশের প্রায় একশ নদীতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেত। এ দেশে ইলিশের প্রাচুর্য ছিল। বলা হয়, এ দেশে ওই সময় ২০ লাখ টন পর্যন্ত ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। সেখান থেকে নানান কারণে স্বাধীনতার পর ৩০ বছরে ইলিশের উৎপাদন ২০০১-০২ অর্থবছরে সর্বনিম্ন ২ লাখ টনে নেমে এসেছিল।
এরপর একদফায় ইলিশ উৎপাদনের সুদিন ২০০৬-০৭ অর্থবছরের পর থেকে আবার এসেছে। একযুগে এই উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন, সেটা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে মাইলফলকে পৌঁছায়। এরপর আরও কয়েক বছর সেটা ইতিবাচক ছিল।
ইলিশ স্বভাবগতভাবে পরিযায়ী মাছ। সমুদ্র থেকে নদী আর নদী থেকে সমুদ্র অবিরাম চলাচল না করতে পারলে এর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মেঘনার ১৪টি স্থানসহ মোট ১৭ স্থানে ইলিশ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। সেগুলোতে অসংখ্য ডুবোচর ও চর ইলিশের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত করছে। ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল ও বিচরণক্ষেত্র পদ্মা-মেঘনার পানিরপ্রবাহ হ্রাস এবং পানিদূষণের কারণে ইলিশের বংশবিস্তার হ্রাস পাচ্ছে।
তবে এখন আবারও নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে ইলিশের উৎপাদন। বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে আবারও দুই দশক আগের মতো ‘দুর্লভ’ হয়ে যেতে পারে এ মাছ।

উৎপাদনের ধারায় ছন্দপতন
২০১৭-১৮ অর্থবছরের মাইলফলকের পরেও টানা কয়েক বছর ধরে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল। কিন্তু হঠাৎ গত দুই বছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। গত অর্থবছর এ উৎপাদন নেমেছে শেষ ৮ বছরের সর্বনিম্নে।
তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ টন। যেখানে এর আগের বছর (২০২৩-২৪ অর্থবছর) ৫ লাখ ২৯ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছিল। তার আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয় দেশে, যা সর্বোচ্চ ছিল।
এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৬ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩২ হাজার টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয় দেশে।
হঠাৎ কেন পতন?
ইলিশ নিয়ে গবেষণা করেন এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি নানা মানবসৃষ্ট কারণে এ নেতিবাচক ফল তৈরি হয়েছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের বিচরণও সীমিত হয়ে পড়েছে। মেঘনার মোহনায় ডুবোচরের সংখ্যা বাড়ায় ইলিশের চলাচলের প্রধান পথগুলো সংকুচিত হচ্ছে।
এছাড়া নদী ও উপকূলীয় দূষণ, অনিরাপদ অভয়াশ্রম এবং অতিরিক্ত আহরণও ইলিশ বিপর্যয়ের বড় কারণ। বিশেষত শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিকের কণা ইলিশের আবাসস্থল এবং খাদ্যশৃঙ্খল হুমকির মুখে ফেলেছে। সব মিলিয়ে মাছটির গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় কাজ করছেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, বেশকিছু কারণ একসঙ্গে হয়ে ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক ধারা তৈরি করেছে। এখন ইলিশের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।

তিনি বলেন, নদীতে পলি জমা, নাব্য সংকট ও চর-ডুবোচর পড়ে যাওয়ার কারণে ওদের (ইলিশের) চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো থেকে পেনিট্রেশনের মাধ্যমে যে খাবার তৈরি হয়, সেটা ব্যাহত হচ্ছে। আবার এ দেশে গত কয়েক বছরে বৃষ্টি ঠিক সময়মতো হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে কম বৃষ্টি, আবার অন্য সময়ে বেশি বৃষ্টি—ইলিশের প্রজননে জটিলতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি নদীর পানিতে লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে, ডিম ছাড়ার জন্য ইলিশ মিঠা পানি পাচ্ছে না।
শিল্পবর্জ্য, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে নদীর স্বচ্ছতা কমে গেছে। পানির মধ্যে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে, যা মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস ও খাদ্য সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক মাছ প্রজনন করতে পারছে না। এছাড়া সম্প্রতি ইলিশের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রজননের ক্ষেত্রে বড় বাধা।
অন্যদিকে মনুষ্যসৃষ্ট কারণ যেমন দূষণ, অতিমাত্রায় জাটকা ধরা ও ডিমওয়ালা ইলিশ আহরণ হচ্ছে। নিষিদ্ধকালীন সময়েও সেটা হচ্ছে। কারখানার বর্জ্য নদীদূষণ করছে, ছোট ছোট নদীতে আর আগের মতো ইলিশ আসছে না। এসব কারণ ইলিশের আবাসস্থল ও খাদ্যশৃঙ্খল হুমকির মুখে ফেলেছে।
আরও যেভাবে রুদ্ধ হয়েছে ইলিশ
৮০ শতাংশ ইলিশের বড় বিস্তার এখন মেঘনা ও এর উপকূলজুড়ে। কিন্তু সেখানে বড় বড় প্রতিবন্ধকতা ইলিশের গতিপথ রুদ্ধ করছে বলে গবেষকদের অনেকেই বলছেন। এছাড়া এখন চাঁদপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও বরিশালের মোট ৪৩২ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত হলেও সেই অভয়াশ্রমেই ইলিশ নিরাপদ নয়।
ইলিশ স্বভাবগতভাবে পরিযায়ী মাছ। সমুদ্র থেকে নদী এবং নদী থেকে সমুদ্রে অবিরাম চলাচল না করতে পারলে এর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মেঘনার ১৪টি স্থানসহ মোট ১৭ স্থানে ইলিশ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। সেগুলোতে অসংখ্য ডুবোচর ও চর ইলিশের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত করছে। ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল ও বিচরণক্ষেত্র পদ্মা-মেঘনার পানির প্রবাহ হ্রাস এবং পানিদূষণের কারণে ইলিশের বংশবিস্তার হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, নদীর নাব্য কমে যাওয়া ও নদীর মোহনায় ডুবোচরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সেখানে চরগুলো মাছের গতিপথ বন্ধ করে দিচ্ছে। বিশেষত মা-ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুমে নদীর স্রোতের সঙ্গে মিল রেখে উজানে যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি জোয়ারের পানিতেও চর পেরোতে গিয়ে অনেক মাছ জালে আটকা পড়ছে।
নদীতে পলি জমা, নাব্য সংকট ও চর-ডুবোচর পড়ে যাওয়ার কারণে ওদের (ইলিশের) চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো থেকে পেনিট্রেশনের দ্বারা যে খাবার তৈরি হয়, সেটা ব্যাহত হচ্ছে। আবার এ দেশে গত কয়েক বছর বৃষ্টি ঠিক সময়মতো হচ্ছে না। বর্ষার মৌসুমে কম বৃষ্টি, আবার অন্য সময়ে বেশি বৃষ্টি ইলিশের প্রজননে জটিলতা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নদীর পানিতে লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে, ডিম ছাড়ার জন্য ইলিশ মিঠা পানি পাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিল্পবর্জ্য, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে নদীর স্বচ্ছতা কমে গেছে। পানির মধ্যে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে, যা মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস ও খাদ্য সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক মাছ প্রজনন করতে পারছে না। এছাড়া সম্প্রতি ইলিশের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রজননের ক্ষেত্রে বড় বাধা।
ইলিশের আকার ছোট হয়ে গেছে
মৎস্য অধিদপ্তর ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে। এ প্রকল্পের একটি মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত সাত বছর আগে বাংলাদেশের ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ গ্রাম, যা এখন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ গ্রামে নেমে এসেছে।
প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, এসব ছোট আকারের কারণে মোট উৎপাদন এখন কমে গেছে। অর্থাৎ সংখ্যায় ইলিশ বাড়লেও বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ তথ্যের সঙ্গে একমত ইলিশ–গবেষক আনিছুর রহমানও। তিনি বলেন, একটি ইলিশ সাত বছর পর্যন্ত বাঁচে, কিন্তু এখন কোনোভাবে তিন থেকে চার বছরের বেশি বড় ইলিশ পাওয়া যায় না।
অতি আহরণ
মোল্লা এমদাদুল্লাহ আরও বলেন, এ দেশে যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ হয়, তা পৃথিবীতে বিরল। দিন দিন জনসংখ্যার অনুপাতে জেলে বাড়ছে—বরং তার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। জেলেরা তাদের বংশপরম্পরায় এ কাজ করছে, আবার নতুন জেলেও যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত।
আর তাদের আধুনিক জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বিশেষ করে ‘কারেন্ট জাল’ ও বড় ফাঁদের মতো চর জাল ছোট-বড় সব ইলিশ ধরে ফেলছে। এই জালগুলো এত সূক্ষ্ম যে জাটকা থেকে শুরু করে ছোট মাছ পর্যন্ত ধরা পড়ে। ফলে মাছ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রজননশীল মজুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বিগত সময়ে ভারত এ দেশ থেকে প্রচুর ইলিশ আহরণ করেছে বলেও এ কর্মকর্তা বলেন। এক বছর আগেও দুই দেশের (ভারত-বাংলাদেশ) নিষেধাজ্ঞার সময় এক ছিল না। তারা ২০২৫ পর্যন্ত প্রচুর মাছ ধরেছে—বলা যায় নির্বিচারে।
তিনি বলেন, এরপরও দেশ-বিদেশের অতি আহরণ ঠেকাতে আমরা কিছু করতে পারিনি। আমাদের (সরকারের) জাহাজ ও ট্রলারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তদারকি করার সক্ষমতা কম।
করণীয় কী?
ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান বলেন, জাটকা সংরক্ষণ, ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন—এই তিনটি বিষয়ে তিনি সবসময় জোর দিয়ে আসছেন। তিন ধরনের বা তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় দরকার।
এরপর অতি আহরণ ও দ্রুত নদীর দূষণ ঠেকাতে হবে। বৈশ্বিক আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার চিন্তা করতে হবে। বিকল্প উদ্ভাবন ও চিন্তাভাবনা দরকার। জেলেদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং আহরণ বন্ধ সময়ে সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, ইলিশ আহরণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে হবে। জাটকা ও মা-ইলিশ ধরা রোধে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলেদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ইলিশের প্রধান আবাসস্থল নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, প্রাকৃতিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং শিল্প-নগর বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত খনন ও ড্রেজিং কার্যক্রম নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইলিশের আবাসস্থলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানির তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এসব প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক কৌশল যেমন আবাসস্থল সংরক্ষণ, টেকসই নীতি প্রণয়ন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলে সম্প্রদায়ের জন্য দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
ইলিশ নিয়ে যেসব কার্যক্রম
মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলিশ প্রজনন ও পোনা বিকাশের জন্য নদী খনন, মাছবান্ধব বাঁধ এবং ফিশ পাস নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে ইলিশের অভিবাসন নির্বিঘ্নে হয়। পাশাপাশি মেঘনা, পদ্মা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে। এসব উদ্যোগ ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজননচক্র টিকিয়ে রাখতে সহায়ক।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাছ ধরার লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্মার্টকার্ড ও ই-মনিটরিং পদ্ধতি জেলেদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা (যেমন চাল বিতরণ) সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জাটকা সংরক্ষণে পরিবেশবান্ধব জাল এবং নির্ধারিত ফাঁস ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে। জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে (১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন) জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌরচালিত নৌকা এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী ইঞ্জিন ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণও কমানো হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে জেলেদের ভিজিএফ কার্ড, খাদ্যসহায়তা এবং আর্থিকসহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এনএইচ/এসএইচএস/এমএফএ