ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চালু ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট!

ইকবাল হোসেন | প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • জ্বালানি সংকটে অনিশ্চয়তায় দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা
  • বিপিসি বলছে, প্ল্যান্টের ওভারহোলিং করা হচ্ছে

অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও প্ল্যান্ট চালু রেখেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। কবে, কখন উৎপাদনে ফিরবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানার জ্বালানি পরিশোধনাগারটি, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ইরানে যুদ্ধ বিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তাস তানুরা বন্দরে আটকা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজটির বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রার বিষয়েও নিশ্চয়তা মিলছে না। তবে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা রয়েছে আরেকটি জাহাজের। নির্ধারিত সময়ে লোড হলেও জাহাজটি বাংলাদেশে আসতে সময় লাগবে ৫ মে পর্যন্ত।

সবমিলিয়ে চলতি (এপ্রিল) মাসে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। তবে সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা বিকল্প উপায়ে কিছু ক্রুড ব্যবস্থা করেছি। এর মধ্যে এসপিএমের (সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং) পাইপলাইনে প্যাকিং থাকা পাঁচ হাজার টন অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হয়েছে। তারপরেও অপরিশোধিত তেলের পরবর্তী পার্সেল আসার মাঝামাঝি সময়ে রিফাইনারির প্ল্যান্টটি ওভারহোলিং করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ প্ল্যান্টের কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হবে।’

উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চালু ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট!

ইস্টার্ন রিফাইনারি

তবে এসপিএমের পাইপলাইনে প্যাকিং থাকা অপরিশোধিত তেল এখনো আনা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরএলের এক পদস্থ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পাইপলাইনে একটি যন্ত্র সংযোজিত আছে। এটি দিয়ে পিগিং করে পাইপলাইন খালি করা হয়। পাইপলাইনে পিগিং করা হলে পাইপ বায়ু দিয়ে পূর্ণ হয়ে যাবে। পাইপে থাকা ক্রুড রিফাইনারির ট্যাংকে চলে আসবে। তবে সেটি এখনো করা হয়নি।’

এক লাখ টন ক্রুড লোড করতে ইয়ানবু যাচ্ছে একটি জাহাজ। ইয়ানবু থেকে বাংলাদেশে আসতে হরমুজ ব্যবহার করা লাগে না। লোড হওয়ার পর জাহাজটি বাংলাদেশের কুতুবদিয়া অ্যাংকরে আসতে ১২-১৩ দিন লাগতে পারে।-বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক

রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ থাকার পরেও প্ল্যান্ট চালুর বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাতের দাপ্তরিক মোবাইল ফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে ইআরএলের সহ-মহাব্যবস্থাপক (পিআর) কাজী আনোয়ারুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের প্ল্যান্ট চালু রয়েছে।’ প্ল্যান্ট চালু থাকলেও উৎপাদন না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়। আমরা এগুলো পরিষ্কার বলতে পারবো না। ডিজিএম প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং সাহেব বলতে পারবেন।’

বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিজিএম (প্লানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজার রহমানকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরো প্ল্যান্ট একবার বন্ধ করে কয়েকদিন পর চালু করলে নানান জটিলতা দেখা দেবে। এটি স্বাভাবিক বিষয়। তাছাড়া ট্যাংকে থাকা ফার্নেস অয়েল সরবরাহ ও ব্যবহার উপযোগী রাখার জন্য টেকনিক্যাল প্রক্রিয়া রয়েছে। যে কারণে জটিলতা এড়ানোর জন্য প্ল্যান্ট চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু অপারেশন শূন্য।’

ইস্টার্ন রিফাইনারি

তথ্যমতে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল রাখার আটটি ট্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে দুটির বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ চলছে। বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট চালু রাখা হলেও ৭ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন বন্ধ। এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনাল রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ তথ্যেও বিষয়টির প্রমাণ রয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহ করা জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন জ্বালানিতে মোট বিক্রিত জ্বালানির ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালিতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্য খাতে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক ০১ শতাংশ এবং অন্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি

ইস্টার্ন রিফাইনারি

এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএল পরিশোধন করে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা বিপিসিকে সরবরাহ দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুত ক্ষমতা ১৫ লাখ টনের কাছাকাছি। জ্বালানি তেলের বর্তমান ব্যবহারের ধারা বিবেচনায় দেশে প্রায় ৪৫ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ মজুত রাখা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ব্যবহৃত শতভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড অয়েল আমদানি করে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) আমদানি করা এসব তেল পরিবহন করে। বিএসসি পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।

আরও পড়ুন

৮ এপ্রিল শেষ হতে পারে ক্রুডের মজুত, বন্ধের হুমকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
দেশি পেট্রোল উৎপাদনেও লাগে বিদেশি অকটেন
দ্বিতীয় রিফাইনারি হলে আমাদের জ্বালানি সংকট আরও ৩-৪ মাস পরে আসতো
চট্টগ্রাম বন্দরে বিকল স্ক্যানার, আটকা শত শত কনটেইনার

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে, যা দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইআরএলের ক্রুড আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় চলতি মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহন আটকে যায়। এর মধ্যে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামে একটি জাহাজ এক লাখ ক্রুড অয়েল লোড নিয়ে ৫ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীসময়ে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।

তবে বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব থেকে বিকল্প পন্থায় এক লাখ টন ক্রুড আনছে বিপিসি। রাস তানুরা থেকে পাইপলাইন দিয়ে ক্রুড অয়েল লোড নিতে ইয়ানবু বন্দরের পথে রয়েছে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামে একটি ট্যাংকার জাহাজ। বৈশ্বিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য বলছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশাল বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক লাখ টন ক্রুড লোড করতে ইয়ানবু যাচ্ছে একটি জাহাজ। ইয়ানবু থেকে বাংলাদেশে আসতে হরমুজ ব্যবহার করা লাগে না। লোড হওয়ার পর জাহাজটি বাংলাদেশের কুতুবদিয়া অ্যাংকরে আসতে ১২-১৩ দিন লাগতে পারে।’ জাহাজটি আসার দিন থেকেই লাইটারিং শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

কমডোর মালেক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিরতি হলেও হরমুজ দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক হলে নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি ছাড়ানো গেলে ১২ দিন পরে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে জাহাজটি নিয়ে আসার ক্লিয়ারেন্স মেলেনি।’

বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘নর্ডিক পোলাক্স জাহাজটি রাস তানুরায় আটকা থাকলেও বিপিসি কিংবা বিএসসিকে কোনো ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে না।’

এমডিআইএইচ/এএসএ