৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির অনুমতি, বদলে যাচ্ছে যত নিয়ম
সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে/ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ৬৭ হাজার ২০৮ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যে কোনো সময় এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এনটিআরসিএ সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে অনুমোদন চেয়েছিল। তাদের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয় আজ অনুমোদন দিয়েছে। এখন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কোনো বাধা নেই।
জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে এনটিআরসিএ। এ গণবিজ্ঞপ্তির জন্য ৭২ হাজার শূন্যপদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্কুল-কলেজে ৩০ হাজার ২৭৯টি মাদরাসায় ৪০ হাজার ৮৩৮ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৯১টি শূন্যপদের তথ্য পাওয়া যায়। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ৬৭ হাজার ২০৮টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বদলে যাচ্ছে অনেক নিয়ম, সহজ হবে সুপারিশ
সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মূলত নিয়োগের সুপারিশ প্রক্রিয়া সহজ করতে এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, আগে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ দিতে পারতেন। এবার তা কমিয়ে মাত্র ৭টি করা হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখিত সাতটির বাইরে কেউ যেতে চাইলে তার জন্য ‘আদার অপশন’ রাখা হয়েছে। তিনি এ আদার অপশনে সম্মতি দিলে ফল প্রকাশের সময় তাকে পছন্দক্রম দেওয়া ৭টির বাইরের প্রতিষ্ঠানেও নিয়োগে সুপারিশ করা হতে পারে।
এনটিআরসিএ’র কর্মকর্তারা বলেন, নির্ধারিত পছন্দ দেওয়ার পর কোনো প্রার্থী যদি তার নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী হন, তাহলে ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে থাকা ‘আদার অপশন’ বক্সে ‘ইয়েস’ নির্বাচন করতে হবে। যারা পছন্দের বাইরে অন্য কোথাও নিয়োগ চান না, তাদের জন্য থাকবে ‘নো’ অপশন। এ প্রক্রিয়া চালু হলে নিয়োগের সুপারিশ প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও সহজ ও সাবলীল হবে।
বয়স গণনা যেদিন থেকে
প্রকাশ হতে যাওয়া সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়স গণনার সময় নির্ধারণ করেছে এনটিআরসিএ। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বয়স হিসাব করা হবে।
এনটিআরসিএ’র কর্মকর্তারা জানান, আবেদনের ক্ষেত্রে বয়স গণনা করা হবে ২০২৫ সালের ৪ জুন থেকে। এ তারিখের মধ্যে বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। কারণ ওইদিনই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
শিক্ষক নিয়োগে আসছে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ ৬৮ হাজার
এর আগে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের বয়স গণনা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ জুন থেকে। সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রেও একই তারিখ থেকে বয়স গণনা করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
ইনডেক্সধারীরা কী আবেদন করতে পারবেন?
সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। একপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে যে, ‘ইনডেক্সধারীরা আবেদন করতে পারবে’। তবে ভিন্ন কথা জানিয়েছেন এনটিআরসিএ’র কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির যে অনুমোদন দিয়েছে, তাতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আবেদন করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, তবে কেউ যদি স্কুলে ইনডেক্স পেয়ে থাকেন, তার যদি কলেজে ইনডেক্স না থাকে এবং নিবন্ধন থাকে; তাহলে তিনি কলেজে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে কলেজে ইনডেক্স থাকা শিক্ষকদের স্কুলের নিবন্ধন এবং ইনডেক্স না থাকলে তারা স্কুল পর্যায়ে আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে, নিবন্ধনধারীদের সনদের মেয়াদ তিন বছরই থাকছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিপত্রে তিন বছরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এএএইচ/ইএ/এমএস