ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. শিক্ষা

স্কুলে ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা, লটারি নিয়ে মতভেদ

আল-আমিন হাসান আদিব | প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ২০ মার্চ ২০২৬

লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আট বছর পর দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনছে সরকার। প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে এখন মেধা যাচাইয়ে নেওয়া হবে পরীক্ষা। মেধাতালিকা হবে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। তবে পরীক্ষার পদ্ধতি কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা ফেরানো নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একপক্ষ লটারি পদ্ধতি ‘ভালো ছিল’ বলে দাবি করেছেন, আরেকপক্ষ ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানোয় সরকারের প্রশংসা করছেন।

দুই পক্ষে এমন আলোচনা-সমালোচনা চললেও অভিভাবকরা বলছেন ভিন্নকথা। তারা প্রাথমিক স্তরের ভর্তিতে লটারি এবং মাধ্যমিক স্তরের ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি চাইছেন। বিশেষ করে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লটারি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। ঢাকা ও বাইরের বিভিন্ন জেলার অন্তত ৫০ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তাদের মতামত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

স্কুলের শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াটা হবে শিক্ষাখাতের সবচেয়ে বড় ডিজাস্টার। এটাকে আমি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করি। ভর্তি পরীক্ষা চালু করা মানে তদবির ও বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়া।-গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী

যদিও ভিন্নমত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরালে ভর্তিতে যেমন দুর্নীতি-অনিয়ম বাড়বে, তেমনি কোচিং বাণিজ্য শুরু হবে। পাশাপাশি শিশুশিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এছাড়া সমাজ ও শিক্ষাখাতে বৈষম্য বাড়বে। নামি-দামি স্কুলে শুধুই ধনীদের সন্তানই পড়বে, আর গরিবরা নামকাওয়াস্তে চলা স্কুলে সন্তানদের পড়াতে বাধ্য হবেন।

স্কুলে ভর্তিতে যেভাবে লটারি এলো

২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও চালু হয় একই পদ্ধতি।

তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো। করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।

লটারি নাকি পরীক্ষা—প্রশ্নে যা বলছেন অভিভাবকরা

দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লটারি হয় না। শুধু যেসব সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় অথবা শুধু মাধ্যমিক স্তর রয়েছে, সেখানে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়।

অভিভাবকরা বলছেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লটারিতে ভর্তি নেওয়া ভালো হবে। এটা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চলতে পারে। তবে ষষ্ঠ থেকে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করানো উচিত।

রাজশাহীর রামচন্দ্রপুর এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আহাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলে লটারিতে ভর্তি নেওয়া উচিত। অল্প বয়সে শিক্ষার্থীরা এত ভর্তি পরীক্ষার চাপ নিতে পারে না। ক্লাস সিক্সে উঠলে তখন জানা-শোনা বাড়ে, সেসময় পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করানোটা ভালো হবে।’

যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে, তারাই মূলত এ পদ্ধতিতে এগিয়ে যায়। অর্থাৎ, উচ্চবিত্ত বা উচ্চাভিলাষী মধ্যবিত্তরা ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে। আমি মনে করি, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে ভালো।-ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ

রাজধানীর বাড্ডা হাই স্কুলের অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘লটারির ভালো-খারাপ দুটি দিকই আছে। ছোট শিশুদের জন্য লটারি ভালো। বড়দের জন্য এটা আবার খারাপ। শিশুরা শেখার আগে তাদের পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, সেজন্য লটারি ভালো। আর সিক্স-সেভেনে যারা ভর্তি হবে, তারা তো পাঁচ-ছয় বছর থেকে পড়ালেখা করছে। সেখানে যার মেধা ভালো, তাকে পছন্দের স্কুলে ভর্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়াটা একরকম অধিকার।’

সালেহা আক্তার নামে কুষ্টিয়ার একজন অভিভাবকের কাছে ভর্তিতে লটারি ও পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে কোনটা ভালো- এমন প্রশ্নে তিনিও একই রকম মত দেন। বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য লটারি ভালো, একটু বড়দের জন্য পরীক্ষা নিতে হবে। তা না হলে ভালো শিক্ষার্থীরা পছন্দের ভালো স্কুলে পড়তে পারবে না। তাকে বঞ্চিত করা তো উচিত নয়।’

আরও পড়ুন

স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারি
ভর্তিতে লটারির সমালোচনা হাসনাতের, বাতিলের আভাস শিক্ষামন্ত্রীর
স্কুলে ভর্তিতে লটারি থাকছে না: শিক্ষামন্ত্রী

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত বছর লটারিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে সন্তানকে ভর্তি করিয়েছেন আজমিরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, লটারিটা ঠিকই আছে। পরীক্ষা যদি নিতে হয়, তাহলে ষষ্ঠ শ্রেণি বা তার ওপরের ক্লাসে ভর্তিতে পরীক্ষা নেওয়াটা ভালো হবে। ওয়ান থেকে ফোর-ফাইভ পর্যন্ত লটারিই থাকুক।’

তবে সাধারণ অভিভাবকদের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, ‘লটারি পদ্ধতি চালুর পরও অনেক স্কুলে পর্দার আড়ালে ভর্তি বাণিজ্য চলেছে। বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। ভর্তি পরীক্ষা মানেই সিন্ডিকেট গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দেওয়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই এ অশুভ সিন্ডিকেট ও ভর্তি বাণিজ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

শিক্ষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

লটারি নাকি পরীক্ষা—এ প্রশ্নে শিক্ষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করেন, লটারি পদ্ধতি থাকলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মিশ্রণ থাকবে। আর পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করালে ভালো স্কুলে শুধুই ভালো ছাত্র-ছাত্রী থাকবে, নিম্নমানের স্কুলে শুধুই পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রী থাকবে। এতে বৈষম্য বাড়বে।

শিক্ষকদের আরেকটি অংশ সরাসরি পরীক্ষার পক্ষে। তারা মনে করেন, যারা মেধাবী তাদের পছন্দের স্কুলে পড়তে দেওয়াটা উচিত। ন্যূনতম একটি যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ না করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়াটা উচিত নয়। এতে একাডেমিক বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হয়।

স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা হবে। তাতে কোচিং বাণিজ্য বাড়বে না। অনিয়ম-দুর্নীতিও হতে দেবো না। কীভাবে এ পরীক্ষা হবে, তা তো আমরা ঘোষণা করিনি। তাহলে আপনারা কীভাবে ধরে নিচ্ছেন যে আগের নিয়মে পরীক্ষা হবে, আগের মতোই বাণিজ্য হবে, দুর্নীতি হবে?-শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন 

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লটারিতে আসা শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই ছয় মাসও টিকতে পারে না। ভালো প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে যে নিয়ম-কানুন, তা মানিয়ে নিতে পারে না অনেকে। আবার রাজউকের লক্ষ্য শতভাগ পাস এবং জিপিএ-৫। সেক্ষেত্রে কেউ নির্দিষ্ট নম্বর না পেলে তাকে টিসি দিয়ে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে লটারিতে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী একটা সময় পর বাদ পড়ে যায়। তারা আর্থিক সংকট এবং নানা অসুবিধায় পড়ে। ভর্তি পরীক্ষা হলে এ সংকট থাকবে না।’

তবে এটিকেই স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে দেখছেন মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালেহীন আজিম। তিনি বলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার কথা বলা উচিত নয়। তবে আমি মনে করি, লটারি বাতিল করে পরীক্ষা নিলে ব্যাপকভাবে বৈষম্য বাড়বে। শুধু বৈষম্য নয়, শিক্ষকরা পরীক্ষার নামে অনিয়ম-দুর্নীতি করে বড় স্কুলে প্রভাবশালী ও ধনীদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ করে দেবে। এতে টাকার খেলা বাড়বে।’

ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষায় ‘ডিজাস্টার’ ঘটাবে, বলছেন শিক্ষাবিদরা

লটারি পদ্ধতি বহালের পক্ষে প্রায় সব শিক্ষাবিদ। শিশুদের ওপর পরীক্ষার চাপ বাড়ানোকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করেন তারা। পাশাপাশি স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করলে, তা শিক্ষাখাতে ‘ডিজাস্টার’ হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।

দেশে দীর্ঘদিন শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী লটারি বাতিলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্কুলের শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াটা হবে শিক্ষাখাতের সবচেয়ে বড় ডিজাস্টার। এটাকে আমি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করি। ভর্তি পরীক্ষা চালু করা মানে তদবির ও বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘হুট করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খারাপ নজির। সরকারের উচিত ছিল শিক্ষাখাতে সব অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাহলে তারা প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারতেন। সরকারকে বলবো, এখনো সময় আছে, আমি বলবো শিশুদের পরীক্ষার মুখে ফেলবেন না, ভিন্ন চিন্তা করুন।’

অভিভাবকদের সঙ্গে কিছুটা একমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। প্রাথমিক স্তরের ভর্তিতে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করেন তিনি। অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া মানেই ফের কোচিং বাণিজ্য শুরু হবে। শিশুদের মেধা যাচাইয়ের নামে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া মানেই বড় একটি অংশকে জীবনের শুরুতেই ফেল করার ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দেওয়া, যা একজন শিশুকে ট্রমার মধ্যে ফেলতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করা মোটেও উচিত হবে না।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ‘যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে, তারাই মূলত এ পদ্ধতিতে এগিয়ে যায়। অর্থাৎ, উচ্চবিত্ত বা উচ্চাভিলাষী মধ্যবিত্তরা ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে। আমি মনে করি, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে ভালো। লটারি বাতিল করলে এর চেয়েও ভালো পদ্ধতি কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা, পরামর্শ ও গবেষণা করা উচিত।’

ভালো শিক্ষাব্যবস্থায় লটারি চলতে পারে না: শিক্ষামন্ত্রী

গত ১৫ মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ স্কুলে ভর্তিতে লটারির সমালোচনা করে তা বাতিলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান। মন্ত্রী সেসময় নিজেও উদ্বেগ জানিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।

পরদিন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও সিপিডির এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে লটারি বাতিলের ইঙ্গিত দেন। একইদিন বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করে লটারি বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লটারি পদ্ধতি উইথড্র (তুলে নেওয়া) করছি। মেধা যাচাই করে ভর্তি করা হবে। তবে সেই মেধা যাচাই পদ্ধতি কেমন হবে, তা পরে জানানো হবে। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা হবে। তাতে কোচিং বাণিজ্য বাড়বে না। অনিয়ম-দুর্নীতিও হতে দেবো না। কীভাবে এ পরীক্ষা হবে, তা তো আমরা ঘোষণা করিনি। তাহলে আপনারা কীভাবে ধরে নিচ্ছেন যে আগের নিয়মে পরীক্ষা হবে, আগের মতোই বাণিজ্য হবে, দুর্নীতি হবে? আগে দেখুন আমরা কীভাবে নিয়মটা করি, তারপর সমালোচনা করুন।’

অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সন্তানদের ভর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। আমরা কঠোর কোনো পদ্ধতি বা নিয়ম চাপিয়ে দেবো না। খুব সহজ, সাবলীল ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে শিশুদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু লটারি, অটোপাসের মতো নিয়ম কোনোভাবেই ভালো শিক্ষাব্যবস্থায় চলতে পারে না।’

এএএইচ/এএসএ