ভিকারুননিসায় অনলাইনে ক্লাস শুরু, প্রথমদিনে উপস্থিতি কম
ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। রোববার (১২ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথমদিনে ক্লাসে উপস্থিতি তুলনামূলক অনেক কম বলে জানা গেছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম জাগো নিউজকে জানান, শনিবার থেকে অনলাইন-অফলাইন ব্লেন্ডেড পদ্ধতি চালু করেছেন তারা। রোববার প্রথমদিন অনলাইন ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এদিন বৈসাবি উৎসবে স্কুল শাখা বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র কলেজ শাখার ক্লাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে স্কুল শাখার শিক্ষার্থীদেরও অনলাইন ক্লাস নেওয়া হবে। তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন অফলাইন পদ্ধতিতে ক্লাস কার্যক্রম চালাবেন তারা।
অনলাইন ক্লাসের প্রথম দিনে অনুপস্থিতি বেশি
রোববার ভিকারুননিসার সব ব্র্যাঞ্চ ক্যাম্পাসের কলেজ শাখায় অনলাইন ক্লাস নেওয়া হয়েছে। তবে উপস্থিতি বেশ কম। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ভিকারুননিসার বেইলি রোডের প্রধান শাখায় বাণিজ্য বিভাগের একটি ক্লাসে মোট ছাত্রী ১৪৫ জন। আর অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়েছেন ৮৫ জন। সেই হিসাবে উপস্থিতির হার ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ।
অনুপস্থিতি বা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেননি ৪১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। বসুন্ধরা শাখার একটি ক্লাসে মোট ছাত্রী ১২০ জন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ৫২ জন। সেই হিসাবে উপস্থিতি ৫৬ শতাংশ। আর অনুপস্থিত বা অংশ নেননি ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগসহ নানান সংকট
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সশরীরে ক্লাসে বেশিরভাগ সময়ই ৮৫-৯০ শতাংশের ওপরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নেন। অনলাইনের ক্ষেত্রে তা অনেকটা কম। অনেকে যুক্ত হয়েও আবার বিভ্রাটে পড়ে ডিসকানেক্ট হয়ে গেছেন বলেও জানান শিক্ষকরা।
ভিকারুননিসার প্রধান শাখার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। এটা ছাত্রীদের অভিভাবকরা আমাদের জানিয়েছেন।’
আরেকজন শিক্ষক বলেন, ‘সবার বাসায় তো ওয়াইফাই নেই। বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের প্যাকেজ ব্যবহার করছে। অনেকের বাসা এমন জায়গায় যেখানে গ্রামীণফোন বা অন্যান্য অপারেটরের ইন্টারনেট কানেকশন দুর্বল। কারও কারও বাসায় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্লাসের সময়ে ওয়াইফাই পায়নি, সেজন্য হয়তো একটি ক্লাসে যুক্ত হতে পারেনি। পরে আবার যুক্ত হয়েছে। আবার শুনতে পাওয়া-না পাওয়ার অভিযোগও আছে। এরকম নানান সমস্যা নিয়েই ক্লাস শেষ করতে হয়েছে।’
এদিকে, শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিক্ষকই গুগল মিট ব্যবহার করে ক্লাস নিয়েছেন। কেউ কেউ জুম প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করছেন। রুটিন অনুযায়ী শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করাচ্ছেন।
স্কুল শাখায় অনলাইন ক্লাস শুরু বৃহস্পতিবার
বৈসাবি উৎসব, চৈত্র সংক্রান্তি এবং বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্কুলে টানা তিনদিনের ছুটি চলছে। ফলে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস এখনও স্কুল শাখায় শুরু হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে স্কুল শাখায়ও অনলাইনে ক্লাস হবে।
অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, ‘আজ প্রথম অনলাইন ক্লাস। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটতে পারে। টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে। পাশাপাশি স্কুল শাখার ক্লাস অনলাইনে শুরু হলে তখন শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে। কোথাও কোনো সমস্যা বা সংকট থাকলে আমরা সেটা সমাধানে পদক্ষেপ নেবো।’
এএএইচ/এসএনআর
সর্বশেষ - শিক্ষা
- ১ ঘাড় ঘোরালেই বহিষ্কার করা হবে, এটা সঠিক নয়
- ২ শিক্ষক নিয়োগে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার সময় বাড়ালো এনটিআরসিএ
- ৩ এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রত্যেক কক্ষে সিসি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক
- ৪ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তান চান্স না পেলে সেই শিক্ষকের পদত্যাগ করা উচিত
- ৫ এসএসসি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে এমপিরা যেতে পারবেন না: শিক্ষামন্ত্রী