বই আলোচনা
মায়া এবং মজার ঘাসফড়িং: প্রকৃতি ও প্রাণের বন্ধুতা
ফাইল ছবি
জোহরা শিউলী
সত্যকে অস্বীকার করে ভুল পথে চলে যাওয়া মানুষকে শেখায় হিংসা-মারামারি। শত্রুতা। প্রকৃতি ও প্রাণের প্রতি হিংস্রতা। কিন্তু প্রকৃতিকে ভালোবেসে, মানুষের পাশে থেকে আরও বেশি সুন্দর করে বাঁচা যায়। প্রকৃতি ও প্রাণের বন্ধু হলে জীবন হয় আনন্দের। প্রশান্তির।
যেমনটা হয়েছে উৎসব দেশে। এখানে কেউ কারো ক্ষতি করে না। সবাই সবার বন্ধু। যদিও এই দেশে কোনো মানুষ নেই, আছে প্রকৃতির অন্যসব প্রাণী। তাদের কোনো লোভ নেই, হিংসা-প্রতিহিংসা নেই। এ দেশে আকাশ বেগুনি, মাটিতে ঘাস নয় বরং নরম সবুজ আলো। এ এক বিস্ময়কর জগত!
এই জগতে মানুষ না থাকলেও আছে কিছু প্রাণী। সেই প্রাণীরা সবাই কথা বলতে পারে! প্রাণীরা প্রাণীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকে। সেখানে ক্ষুধার্ত হাঁসের ছানাকে চড়ুইপাখি তার ঠোঁট দিয়ে খাওয়ায়, পথহারানো হাঁসের বাচ্চাকে তার বাসায় পৌঁছে দেয়।
ভাবছো এটা আবার কেমন দেশ? আদৌ কী আছে এমন দেশ? হুম, এমন দেশ আছে মায়ার কল্পনার জগতে।
মায়া হলো নয় বছরের মিষ্টি একটি মেয়ে। সে বই পড়তে ভালোবাসে। আর তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো বাগানে গিয়ে গাছপালার সঙ্গে কথা বলা। গাছপালারা যদিও কথার উত্তর দিতে পারে না। তবুও মায়ার এক অদ্ভুত সুন্দর সম্পর্ক ওদের সঙ্গে। মায়ার কল্পনার সঙ্গী হয়ে আমরা জেনেছি উৎসব দেশের মতো শান্তি শান্তি এক জগতের কথা।
একদিন বিকেলে, সূর্যটা যখন ধীরে ধীরে নিচে নামছিল, মায়া তাদের ছোট্ট বাগানে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেলো। ঝোঁপের পাশে সে তাকিয়ে দেখে, একটা সবুজ ঘাসফড়িং উল্টো হয়ে পড়ে আছে, পা দুটো কাঁপছে, যেন সে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। মায়া ধীরে ধীরে তার কাছে গেল। সে ঘাসফড়িংটিকে খুব যত্ন করে দুই আঙুলে তুলে সোজা করে দিলো।
ফড়িংটা এক লাফে উঠে দাঁড়ালো, ডানাগুলো একটু ঝাঁকিয়ে হেসে উঠল। ধন্যবাদ দিলো মায়াকে। আর সঙ্গী করলো তার চমৎকার জগতের। মানুষের প্রকৃতির যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, গাছদের-প্রাণীদের বন্ধু হওয়া প্রয়োজন, বিস্ময়কর জগত তো তাই বার্তা দিচ্ছে আমাদের। আর মায়ার মতো যে শিশুরা আছে তারাই তো দায়িত্ব নিবে আমাদের পরবর্তী বিশ্বের। যে বিশ্ব হবে সবুজ। শান্তির। মায়াময়।
ঘাসফড়িঙের সঙ্গী হয়ে অনন্য সবুজ মায়াময় উৎসব দেশের গল্প আমরা জেনেছি ‘মায়া এবং মজার ঘাসফড়িং’ বইতে। বইটি লিখেছেন লেখক কামরুল হাসান শায়ক। শিশু মনস্তত্ত্বের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা অনিবার্য এক অনুষঙ্গ, এই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই তিনি লিখেছেন ‘মায়া এবং মজার ঘাসফড়িং’। আনন্দে বাঁচতে হলে মানুষকে প্রকৃতি ও প্রাণের বন্ধু হতে হবে। এই গল্পে শিশুর কল্পনা, মমতা ও পরিবেশ-সচেতনতার এক সুমধুর মিশ্রণ পাঠককে ভাবাবে ও মুগ্ধ করবে।
শিল্পী গৌতম ঘোষ চমৎকার করে এঁকে দিয়েছেন মায়া, ঘাসফড়িং আর তাদের বিস্ময়কর জগতকে। বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। তাদের বুকশপ পিবিএসে এসে খুব সহজেই কিনতে পারবে শিশুতোষ এই বই। অথবা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ঘরে বসে সংগ্রহ করতে পারো বইটি।
ঘাসফড়িং আর মায়ার গল্প পড়ে মন ভরে উঠবে মায়া, রং আর ভালোবাসায়। তোমাদের যাদের বয়স এগারো কিংবা তারচেয়ে একটু বেশি; আর দেরি নয়, এবার পড়ে ফেলো ‘মায়া এবং মজার ঘাসফড়িং’। হারিয়ে যাও মায়ার অনন্য জগতে। সেইসঙ্গে মনের দরজা খোলা রেখে এবার বন্ধু হয়ে যাও প্রকৃতি ও প্রাণের।
এসইউ