ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিনোদন

জামিনে বেরিয়ে বাদীকে মারধর করেছেন নোবেল, অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে ‘হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা’ এবং ‘প্রতারণা করে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের’ মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিন জামিন পেয়েই বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে।

আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করেন বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।

তার অভিযোগ, মঙ্গলবার জামিন পেয়েই তাকে ‘মারধর’ করেন নোবেল। জামিন বাতিলের বিষয়ে কী করা যায়, সেই পরামর্শ নিতে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে আদালতপাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি।

অনন্যা বলেছেন, সে (নোবেল) হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছে। জামিনের পর বাসায় নিয়ে ফের আমাকে মারধর করেছে। আমি কেন তার বিরুদ্ধে মামলা দিলাম, এটা বলে মারধর করেছে। বাদী অনন্যা সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতের কাঁটা দাগ দেখান।

তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে আর মিডিয়ার বাইরের নোবেল একদম আলাদা। আমি ওকে (নোবেল) খুব ভালোভাবে চিনি। ও নেশাখোর, কিন্তু নিজেকে ভিকটিম দাবি করে। পরিস্থিতির শিকার দাবি করে।’

এ সময় পাশে থাকা অনন্যার মা বিবি কুলসুম বলেন, ‘মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নোবেল জামিন নিয়ে গেছে। জামিনের পর পুরো লুক চেঞ্জ। ফের আমার মেয়েকে মারধর করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমার মেয়ের সাথে তার বিয়ে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানানো হয়নি। নোবেল নিজেও আদালতে বিয়ের বিষয়টা জানিয়েছে। জামিনের পর আমার মেয়েকে নোবেল তার বাসায় নিয়ে যায়। এরপর আবার মারধর করে। গতকালও তাকে মেরেছে। তার ভিডিওসহ ডকুমেন্টস আমাদের কাছে আছে। আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

অনন্যা ও তার মা কুলসুম বলেন, নোবেল আমাদের ‘হুমকি’ দিয়েছেন যে, বাড়ির বাইরে বের হলে ‘দেখে নেবেন’। সে কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

গত বছরের ১৩ অগাস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনন্যাকে ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ ২০২৩ সালের ২৫ অগাস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নিয়ে ‘আত্মসাৎ’ করেন নোবেল। বাদীকে আটকে রেখে ‘হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি’ তৈরির চেষ্টা করেন। অন্য আসামিরা তাকে সহযোগিতা করেন।

অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়ে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ওই মামলায় সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

অনন্যাও সেদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তাদের মধ্যে আপস হয়। বিষয়টি আদালতকে জানানোও হয়। বিচারক বাদীর কাছে জানতে চান, আপসের কথা হয়েছে কি না। অনন্যা বলেন, “হ্যাঁ”। এরপর বিচারক দুইজনের কাছে জানতে চান তারা আপোস চান কি না। জবাবে দুইজনই ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছেন। নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপসের কথা তুলে ধরে জামিন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত থেকে ১ হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ে করবে এমন শর্তে বাদী সেদিন নোবেলের জামিনের বিরোধিতা করেনি। আপসের শর্তে আসামি জামিন পায়। কিন্তু বাদী নোবেলের সাথে তার বাসায় গেলে সারারাত নোবেল মেয়েটাকে মারধর করে। মারধরে সে বেহুঁশ হয়ে যায়। তারপর মেডিকেলে নিয়ে যায়। এখন বাদী নোবেলের জামিন বাতিলের আবেদন করবে।’

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নোবেল সাড়া দেননি।

আরএমডি