‘রিজিকের মায়ের কাছে চলে যাব’, ভিডিওতে আত্মপক্ষ সমর্থন আলভীর
আত্মপক্ষ সমর্থণ করলেন আলভী
অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন তরুণ অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী। স্ত্রীর আত্মহনন ও তার জানাজায় উপস্থিত না থাকায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন নাটকের এই নায়ক। ভীষণ ভেঙে পড়েছেন তিনি। ভিডিও বার্তায় ‘রিজিকের মায়ের কাছে চলে যাওয়ার হুমকি’ দিয়েছেন জাহের আলভী।
গত পরশু আত্মহননে যান আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরা। ঘটনার পর থেকে সহশিল্পীর সঙ্গে আলভীর পরকীয়সহ নানা ঘটনা সামনে আসে। এমনকি জানাজা ও দাফনেও হাজির হননি আলভী। এ নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইকরার অপমৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় আলভী, তার মা ও কথিত প্রেমিকার নামে মামলা হয়েছে। অবশেষে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন আলভী।
আজ (২ মার্চ) সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন আলভী। সেখানে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি চান আমি রিজিকের (ইকরা-আলভীর একমাত্র ছেলে) মায়ের কাছে চলে যাই। তাহলে রিজিকের কি হবে।’
ওই ভিডিওতে আলভী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। এই ভিডিওতে আমি সব কিছু ক্লিয়ার করব। শেষ প্রশ্ন থেকেই আসি। দেখলাম অনেকেই বলছেন, যে মানুষটা তার ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করল, একটাবারও শেষ দেখা দেখতে এলাম না কেন? আপনারা কি আমার দেশে ফেরার অবস্থা রেখেছেন? আমি দেশে আসা মাত্রই মব সৃষ্টি করা হবে, আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হবে।’
ফোনে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে দাবী করে আলভী বলেন, ‘আমার ফোনে এত এত থ্রেটস, আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। আমার কাছে ইনফরমেশন আছে, এয়ারপোর্টে লোক ফিট করা আছে, আমি এয়ারপোর্টে যাওয়া মাত্রই তারা আমাকে হিট করবে, তারা আমাকে মেরে ফেলবে।’
নেপাল থেকে দেশে ফেরা নিয়ে আলভী বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে, নেপাল থেকে আসতে কতক্ষণ লাগে? নেপাল কি মঙ্গলগ্রহে নাকি? আমি নেপালে এসেছি ১৮ বার, আমি জানি কতক্ষণ লাগে। যেদিনের ঘটনা, সেদিন কোনো চেষ্টা বাদ রাখিনি দেশে আসার। ডিরেক্ট ফ্লাইট ছিল না, একটা ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল, কিন্তু ওইটাতে এলে পরের দিন আসতে হতো। অনেকভাবে চেষ্টা করেছি কোনোভাবে বাংলাদেশে ঢোকার, কিন্তু কোনোভাবেই ওই দিন আমি টিকিট ম্যানেজ করতে পারিনি। তার পরদিন আমি ইমিগ্রেশন ক্রস করি, এরপর জানতে পারি এয়ারপোর্টে ঢোকামাত্রই আমার ওপর অ্যাটাক হবে, আমাকে হিট করা হবে। ওই অবস্থায় তো আমি ঢুকব না। এটাই ছিল কারণ।’
ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্কটা শুরু থেকেই ‘টক্সিক’ ছিল বলে দাবী করে আলভী বলেন, ‘সম্পর্কের শুরু থেকেই ইকরা অনেক সন্দেহপ্রবণ ছিল, যার কারণে আমাদের সম্পর্কটা শুরু থেকেই টক্সিক ছিল। অনেক আগে থেকেই, তিথির সঙ্গে পরিচয় হওয়ারও আগে থেকে। ইকরা অনেক আগে থেকেই ডিভোর্স চাইত, কিন্তু আমি এটা চাইনি।’
স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আলভী বলেন, ‘ইকরার কিছু বদ-অভ্যাস ছিল। ইকরা ট্রিগারড হয়েছে, তবে আমার কারণে না। আমার কিছু ভাই ব্রাদারের কারণে, যারা ওর আর আমার দুজনেরই কমন সার্কেল। ওরা দিনের পর দিন ট্রিগার করে ইকরাকে এই জায়গায় নিয়ে আসছে। আমি ইকরাকে আত্মহত্যা করতে ট্রিগার করিনি, সে ট্রিগারড হয়েছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় মায়ের গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে বাদ আসর তাকে দাফন করা হয়।
এমআই/আরএমডি