ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. বিনোদন

জীবনের যে অতৃপ্তি আলমগীর এখনো পূরণ করতে পারেননি

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢালিউডের বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর আজ ৭৬ বছরে পা দিলেও তার জীবনে একটি গভীর অতৃপ্তি এখনো রয়ে গেছে। পরিবারকেন্দ্রিক জীবন ও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে এখনও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।

ঢালিউডের চিরসবুজ নায়ক আলমগীর আজ (৩ এপ্রিল) ৭৬তম জন্মদিন পালন করলেন নীরব ও পরিবারকেন্দ্রিকভাবে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে তিনি পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করেন। কয়েক বছর ধরে জন্মদিনকে তিনি পরিবারকেন্দ্রিক রাখার প্রতি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

আলমগীরের বাবা, কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া, ছিলেন ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’র অন্যতম প্রযোজক। পরিবারের এই শিল্পিক ঐতিহ্য আলমগীরের চলচ্চিত্র জীবনের ভিত্তি গড়েছে।

জন্মদিনকে আলমগীর আর বড় আয়োজনের সঙ্গে জড়িত করেন না। অফিস এবং বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ জীবনযাপন করেন। করোনা মহামারির পর থেকে জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা আরও সংকুচিত হয়েছে। তিনি বলেন, “জন্মদিন বড় বা ছোট-আমার কাছে তা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে মূল্যবান।”

এটি স্পষ্ট করে যে, নীরবতার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে একান্ত মুহূর্ত উপভোগ করাই তার পছন্দের বিষয়। যদিও আলমগীর আড্ডাপ্রিয়, তার ব্যক্তিগত জীবন অনেকটা সংযত ও সুনিয়ন্ত্রিত।

আলমগীর শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি। প্রযোজনা, পরিচালনা এবং সংগীতেও তিনি নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সিনেমার বিভিন্ন ঘরানায়-পারিবারিক, সামাজিক, অ্যাকশন, রোমান্টিক, ফোক ও ফ্যান্টাসি-তার অভিনয় দর্শকের মনে বিশেষ ছাপ রেখেছে।

তবে নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরিতে তিনি কিছুটা হতাশ। তিনি বলেন, “ভালো চিত্রনাট্য, পরিচালক, সুরকার-সব মিলিয়ে যেন শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আমাদের সময়ের মতো নতুন প্রজন্মের সিনেমা এখন সেই একই মান বজায় রাখতে পারছে না।”

একসময় বছরে শতাধিক সিনেমা মুক্তি পেত এবং দেশে প্রায় ১,৪০০ প্রেক্ষাগৃহ কার্যকর ছিল। আজ সেই সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। বছরের অধিকাংশ সময়ে মাত্র ৬০-৭০টি প্রেক্ষাগৃহ খোলা থাকে, ঈদের সময় কিছুটা ভিড় হয়।

আলমগীর বলেন, “আমরা যখন সিনেমায় এসেছি, তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল সিনেমাকে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। দর্শকের জন্য ভালো সিনেমা তৈরি করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। আজকের দিনে ছবির মান, দর্শকপ্রিয়তা-সবকিছুই অনেকটা হারিয়েছে।”

জীবনের যে অতৃপ্তি আলমগীর কখনো পূর্ণ করতে পারেননিআলমগীর

তবুও তিনি অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। ভালো গল্প পেলেই আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “একজন পরিচালক যদি আসে এবং আমাকে বলবে, ‘এই গল্প আপনার জন্য লেখা’, আমি সেটি করব। ভালো গল্প থাকলেই বয়স বা সময়ের ব্যাপার কোনো বাধা নয়।”

আলমগীর একজন গর্বিত বাবা। তার বড় মেয়ে আঁখি আলমগীর এখন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। যদিও আলমগীর প্রথমে চেয়েছিলেন মেয়েটি চিকিৎসক হোক। তিনি বলেন, “আঁখি নিজে নিজেই পেশাদার শিল্পী হয়ে গেছে। আমি এখন তার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।”

ছোট মেয়ে তুলতুল একসময় চাকরি করতেন, এখন আর করেন না। তিনি চান ছিলেন, তুলতুল আইনজীবী হোক। ছেলে তাসভীর আহমেদ পড়াশোনা শেষে পরিবারের ব্যবসা দেখাশোনা করছেন।

জীবনের এই পর্যায়ে আলমগীর স্বীকার করেন, তার মধ্যে একটি গভীর অতৃপ্তি রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ভালো অভিনেতা হতে পারিনি। এটা আমার অন্তরের ভেতরের কথা।”

এই অকপট স্বীকারোক্তি যেন একজন শিল্পীর জীবনের দীর্ঘ সাধনার প্রতিফলন। আলমগীরের মতে, অভিনয়ের গভীরতা এক জীবনে পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।

দেশি-বিদেশি অনেক অভিনেতার কাজ আলমগীরকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের কিংবদন্তি শিল্পীদের পাশাপাশি উপমহাদেশের অভিনেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি সুচিত্রা সেনের ভক্ত এবং ভারতের বহু অভিনেতার বিপরীতে অভিনয় করেছেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন হলেও আশার আলোও আছে। আলমগীর বলেন, “সৎ নেতৃত্ব, সুন্দর নীতিমালা এবং চলচ্চিত্র ফেডারেশনের সহযোগিতায় শিল্প আবার পুনর্জীবিত হতে পারে। ছবি চলল কি চলল না, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। আমাদের নীতিমালা ঠিক হলে শিল্প আবার সমৃদ্ধ হবে।”

আরও পড়ুন:
দুই সন্তান অসুস্থ, দোয়া চেয়েছেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা নোলক 
শাকিব খান ও তার ভক্তদের গান উৎসর্গ করলেন এস আই টুটুল 

জীবনের অনেক প্রাপ্তি থাকা সত্ত্বেও আলমগীরের মধ্যে একটি গভীর অতৃপ্তি রয়ে গেছে- যা তাকে আরও ভালো অভিনয়ের প্রতি উৎসাহিত করে। পরিবারকেন্দ্রিক জীবন, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা এবং ক্যামেরার প্রতি ভালোবাসা তাকে আজও ঢালিউডের এক অবিচলিত নক্ষত্র হিসেবে স্থাপন করেছে।

এমএমএফ

আরও পড়ুন