ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

এত সব প্রতিশ্রুতি, পূরণ হবে কি

অধরা মাধুরী পরমা | প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা টিভির নিউজ চ্যানেল – যেখানেই যান না কেন, কয়েকদিন থেকে সব মিডিয়াতেই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের বিচিত্র প্রতিশ্রুতির জোয়ার।

মজার বিষয় হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিনটি কাকতালীয়ভাবে ভ্যালেনটাইনস্ সপ্তাহের প্রমিস ডে বা প্রতিশ্রুতি দিবসে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি মূলত ভালোবাসার মানুষদের মধ্যে প্রতিশ্রুতিকে উদযাপন করার একটি উপলক্ষ্য।

কিন্তু আমাদের জন্য ‘প্রতিশ্রুতি’ বিষয়টি এবছর এক ভিন্ন আমেজ তৈরি করেছে। একেকজন পদপ্রার্থী এসে আমাদের সেসব প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন, যা আমরা চাই। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এতসব প্রমিজ কি আদৌ পূরণ হবে –

১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
বিএনপি তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা হ্রাসে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না - এমন বিধান চালুর কথা তারা বলছে। এছাড়া বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ প্রবর্তন, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তারা ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামী মূলত ইনসাফ কায়েম ও নৈতিকতাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে বেকারত্ব দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণ নয়, বরং ‘বিনাসুদে ঋণ’ বা করজে হাসানা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ইসলামী সমাজব্যবস্থার আলোকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণই তাদের মূল লক্ষ্য।

৩. ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)
এনসিপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মূলত তৃণমূল মানুষের অধিকার এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা প্রতিটি গ্রামকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং কৃষি উপকরণের দাম কমানোর অঙ্গীকার করেছে দলটি। এছাড়া তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করার কথা বলেছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য তারা উপজেলা পর্যায়ে কলকারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি ঘরে অন্তত একজনের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

সূত্র: রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহার

এএমপি/এমএন

আরও পড়ুন