ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

সামাজিক মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃতি নিয়ে কি ভাবছেন তরুণরা?

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:৩৮ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যম এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ, মত প্রকাশ কিংবা বিনোদন-সবকিছুতেই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা অপরিসীম। তবে এই সুবিধার আড়ালে ক্রমেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও শুদ্ধতা। সামাজিক মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ভাবনা। রাজশাহী কলেজের একদল শিক্ষার্থীর ভাবনা লিখেছেন আবু রায়হান-

বর্ষা আহমেদ মিম
ব্যবস্থাপনা বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
সামাজিক মাধ্যমে বাংলার ব্যবহার দিন দিন ইংরেজি নির্ভর হয়ে পড়ছে। বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট বা পোস্টে আমরা প্রায়ই সাধারণ কথার মধ্যেও ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করি। এতে শুদ্ধ বাংলার চর্চা কমে যাচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো জানেন না যে এটি ভাষার জন্য ক্ষতিকর। আমিও অনেক সময় অচেতনভাবে তা করি, কিন্তু পরে নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করি। এই দায় এড়ানো যায় না। কারণ ভাষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বর্তমান প্রজন্মের ব্যবহারের ওপর।

ফারদিন খন্দকার ফুয়াদ
ব্যবস্থাপনা বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ
আমি মনে করি সামাজিক মাধ্যমে বাংলার বিকৃতির দায় প্রযুক্তিরও আছে। অটোকরেক্ট বা দ্রুত টাইপ করার সুবিধার কারণে আমরা অচেতনভাবে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করি। অনেক সময় আমরা ভাবি, ‘সবাই তো এটা ব্যবহার করছে, তাই আমি কেন ব্যবহার করব না?’ কিন্তু এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় সমস্যা তৈরি করছে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অংশ। তাই দায় আমাদের সবার, প্রতিটি ব্যবহারকারীর। সচেতন ব্যবহার না করলে শুদ্ধ বাংলা হারিয়ে যাবে। আমি নিজেও চেষ্টা করি বাংলা শব্দ পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে, তবে কখনো কখনো সহজতার জন্য ইংরেজি শব্দ ব্যবহার হয়ে যায়।

সুশ্রী সরকার
সমাজ কর্ম বিভাগ, প্রথম বর্ষ
সামাজিক মাধ্যমে ভাষার বিকৃতির পেছনে ব্যক্তিগত উদাসীনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বহীনতা। অনেকেই ফ্যাশন বা আধুনিকতার নাম করে বাংলা শব্দের জায়গায় ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন। বিষয়টি ছোট মনে হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে ভাষার জন্য ক্ষতিকর। শুধু সাধারণ ব্যবহারকারী নয়, মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদেরও শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।

লিমন শর্মা
বাংলা বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ
ভাষা পরিবর্তনশীল। সূচনা থেকে বর্তমান সভ্যতা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাষার পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ঠিক তেমন ভাবেই সামাজিক মাধ্যম নতুন প্রজন্মের প্রকাশভঙ্গি তৈরি করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আমার মতে এই মাধ্যমেই বাংলা ভাষা সবচেয়ে বেশি বিকৃত হচ্ছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউব-সবখানেই ইংরেজি ও বাংলার সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। এতে করে শুদ্ধ বাংলা লেখার অভ্যাস দিন দিন কমে যাচ্ছে। সর্বোপরি ভাষার সঠিক ব্যবহারের দিকে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা যদি নিজের লেখায় যত্নশীল হই, সামাজিক মাধ্যমেও বাংলার সৌন্দর্য টিকে থাকবে।

প্রীতি চৌধুরী
দর্শন বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
অনেক সময় মানুষ দ্রুত যোগাযোগের জন্য বা ফ্যাশনের কারণে বাংলা শব্দের পরিবর্তে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে। যেমন, কোনো ফেসবুক পোস্টে বা স্ট্যাটাসে ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’, ‘মিটিং’, ‘সেলফি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে এই অভ্যাস বাংলার শুদ্ধতা কমাচ্ছে। আমার মতে, দায় শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীর নয়। মিডিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও দায়ী, যারা সামাজিক মাধ্যমে শুদ্ধ বাংলার উদাহরণ দেখাচ্ছে না। আমাদের শিক্ষিত মানুষদের দায়িত্ব হলো নিজের ব্যবহার ঠিক রাখা এবং অন্যকে অনুপ্রাণিত করা।

আরিফুল ইসলাম
ইতিহাস বিভাগ, স্নাতকোত্তর
সামাজিক মাধ্যমে বাংলার ব্যবহার এখন অনেকটা ইংরেজি শব্দে ভরে গেছে। এতে আমাদের শুদ্ধ বাংলা ব্যবহার হারাচ্ছে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে অচেতনভাবে ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করি, কিন্তু পরে নিজেকে ধরতে চেষ্টা করি। আমার মতে, দায় আমাদের সবার। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আর শুদ্ধ বাংলার সঙ্গে পরিচিত থাকবে না। শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহার নয়, সামাজিক মাধ্যমেও আমরা যতটা শুদ্ধ বাংলা প্রচার করতে পারি, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

শিক্ষার্থীদের এই অভিমত থেকে স্পষ্ট, সামাজিক মাধ্যমে বাংলার বিকৃতির দায় কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। ব্যক্তিগত অসচেতনতা, প্রযুক্তির প্রভাব, পাশাপাশি শিক্ষা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বহীনতা-সবকিছু মিলিয়েই শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে হতাশার মাঝেও আশার জায়গা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠেই উঠে এসেছে সচেতন ব্যবহারের আহ্বান। তারা মনে করেন, সামাজিক মাধ্যমে শুদ্ধ ও সুন্দর বাংলা চর্চা শুরু হতে পারে ব্যক্তি পর্যায় থেকেই। প্রতিটি পোস্ট, মন্তব্য কিংবা বার্তায় দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমেই রক্ষা পেতে পারে আমাদের ভাষার স্বকীয়তা। সময়ের স্রোতে এগিয়ে চলা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েও যে বাংলা তার সৌন্দর্য ও মর্যাদা অটুট রাখতে পারে। এই বিশ্বাসই জাগাচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভাবনা।

আরও পড়ুন
বাংলার নৃশংস গণহত্যার ইতিহাস জানেন কি?
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কৃষক সংগ্রাম ‘তেভাগা আন্দোলন’

কেএসকে

আরও পড়ুন