ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

কেক-পেস্ট্রি একই জিনিস নাকি আলাদা?

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:৪১ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডেজার্টের দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম কেক। জন্মদিন হোক কিংবা বিবাহবার্ষিকি, কিংবা মন ভালো করার দাওয়াই কেক সবকিছুতে চাই-ই-চাই। এছাড়া ছোট খিদে মেটাতে পেস্ট্রির জুড়ি মেলা ভার। অনেকেই কেক ও পেস্ট্রিকে একই জিনিস মনে করলেও বাস্তবে তাদের গঠন, উপাদান, তৈরির পদ্ধতি ও পরিবেশনের ধরনে রয়েছে পার্থক্য। চলুন আজ কেক এবং পেস্ট্রির মধ্যে পার্থক্য কি এবং কেন এটি আলাদা সেটা জেনে নেওয়া যাক-

কেক সাধারণত নরম, স্পঞ্জি এবং তুলনামূলক বড় আকারের বেকড খাবার, যা ময়দা, ডিম, চিনি, মাখন বা তেল, বেকিং পাউডার ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি হয়। অন্যদিকে পেস্ট্রি মূলত হালকা, স্তরযুক্ত বা ক্রিস্পি ডো দিয়ে তৈরি ছোট আকারের বেকড খাবার, যার মধ্যে কাস্টার্ড, ফল, ক্রিম বা চকলেটের পুর থাকতে পারে। কেক যেখানে বেশি স্পঞ্জি ও আর্দ্র, পেস্ট্রি সেখানে টেক্সচারে বেশি বৈচিত্র্যময় কখনো খাস্তা, কখনো স্তরযুক্ত, কখনো ক্রিমি।

jagonewsকেকের ইতিহাস বহু প্রাচীন। ইতিহাসবিদদের মতে এর সূচনা প্রাচীন সভ্যতায়, বিশেষ করে প্রাচীন মিশরে, যেখানে রুটি সদৃশ মিষ্টি খাবার তৈরি করা হতো মধু ও শস্য দিয়ে। পরে প্রাচীন গ্রিসে কেকের উন্নত সংস্করণ দেখা যায়, যেখানে বাদাম, ফল ও মধু ব্যবহার করা হতো। রোমান সাম্রাজ্যের সময় রোমে কেক আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এটি পরিবেশন করা শুরু হয়। তবে আধুনিক কেকের প্রকৃত বিকাশ ঘটে ইউরোপে, বিশেষ করে ফ্রান্সে, যেখানে পেস্ট্রি ও ডেজার্ট তৈরির শিল্প একধরনের উচ্চমানের রন্ধনশৈলীতে পরিণত হয়।

পেস্ট্রির ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। পেস্ট্রির মূল ধারণা এসেছে ময়দার ডো স্তরে স্তরে ভাঁজ করে তাতে মাখন বা চর্বি ব্যবহার করার পদ্ধতি থেকে, যা ইউরোপীয় বেকিং ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অস্ট্রিয়া এবং ইতালি-তে পেস্ট্রির বিভিন্ন ধরণ বিকশিত হয়। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের পেস্ট্রি সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, আর প্যারিস বিশ্বজুড়ে প্যাটিসেরি শিল্পের রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

jagonewsকেক ও পেস্ট্রির পার্থক্য শুধু গঠনে নয়, পরিবেশন ও সামাজিক ব্যবহারেও স্পষ্ট। কেক সাধারণত জন্মদিন, বিয়ে বা বড় উদযাপনে কাটা হয় এবং এটি একাধিক মানুষের মধ্যে ভাগ করে খাওয়া হয়। পেস্ট্রি সাধারণত ব্যক্তিগত পরিবেশনের জন্য তৈরি ছোট আকারের হওয়ায় এটি এক বা দুই জনের জন্য যথেষ্ট। কেকের ক্ষেত্রে আইসিং, ফন্ড্যান্ট, গ্যানাশ ইত্যাদি সাজসজ্জা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর পেস্ট্রিতে গুরুত্ব দেওয়া হয় স্তর, পুর এবং টেক্সচারের বৈচিত্র্যে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কেক-পেস্ট্রির স্বাদ ও ধরনে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়। ইউরোপে বাটার-বেসড রিচ কেক জনপ্রিয়, মধ্যপ্রাচ্যে খেজুর, বাদাম ও মধু ব্যবহৃত মিষ্টান্ন বেশি প্রচলিত, আবার এশিয়ায় তুলনামূলক কম মিষ্টি ও হালকা স্পঞ্জ কেক বেশি খাওয়া হয়। জাপান ও কোরিয়ায় নরম ক্রিম কেক জনপ্রিয়, আর দক্ষিণ এশিয়ায় ফলের কেক ও বাটার কেক উৎসবের অপরিহার্য অংশ।

jagonewsআধুনিক যুগে কেক ও পেস্ট্রি শুধু খাবার নয়, শিল্পের অংশ হয়ে উঠেছে। থিম কেক, থ্রি-ডি কেক, মিরর গ্লেজ পেস্ট্রি কিংবা ফিউশন ডেজার্ট সবই দেখায় যে এই মিষ্টান্ন জগৎ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবেও এখন কেক-পেস্ট্রি শুধু স্বাদের নয়, দেখতেও হতে হয় আকর্ষণীয়।

আরও পড়ুন
মশা কেন কানের কাছে এসেই গুনগুন করে?
পানি নয়, এই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর হাত ধোয়ানো হয় চকলেটে

কেএসকে

আরও পড়ুন