ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ফিচার

পৃথিবীর আদি প্রাণী পিঁপড়ার জীবনব্যবস্থা আমাদের কী শিক্ষা দেয়

খায়রুল বাশার আশিক | প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

পৃথিবীর আদিতম প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি ‘পিঁপড়া’। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতর প্রাণীর মধ্যেও পিঁপড়া অন্যতম। কিন্তু এ ক্ষুদ্র প্রাণীর কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু। কর্ম বৈশিষ্ট্যের জন্য ক্ষুদ্র প্রাণীটিকে অনেক সময় উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পিঁপড়া বহুবিধ গুণে গুণান্বিত। পরিবেশের উপকারী বন্ধু পিঁপড়ার রয়েছে বৈচিত্র্যময় জীবনব্যবস্থা।

পিঁপড়া সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে। এদের রয়েছে সামাজিক জীবন। পিঁপড়ারা সংঘবদ্ধভাবে কলোনি করে বসবাস করে। যখন দুটি পিঁপড়ার দেখা হয় তখন তারা একে অন্যের ঘ্রাণ নেয় অথবা ফেরোমোন নামে এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে। ছোট্ট ক্ষুদ্র এই প্রাণী পৃথিবীতে টিকে আছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছরেরও আগে থেকে। প্রায় ২২ হাজার প্রজাতির পিঁপড়া এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। বাংলাদেশে এর মাত্র ২৫০ প্রজাতির পিঁপড়ার কথা জানা যায়।

jagonewsপিঁপড়া ভীষণ দূরদর্শী। সারা বছর পরিশ্রম করে শীতকালের খাবার জোগাড়ের জন্য। শীতকালে ঠান্ডার জন্য খাবার সংগ্রহে কষ্ট হবে বলে সারা বছর খাবার জোগাড় করে। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য দলবেঁধে চলাফেরা করে। কোনো বিপদের কথা শুনলে মুহূর্তের মধ্যে সে তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়। ক্ষুদ্র এ প্রাণী রুটিন মেনে চলে। তাদের সবার কাজ ভাগ করে দেওয়া থাকে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা করে।

কর্মী পিঁপড়া খাবার খুঁজে তা বহন করে নিজ ডেরায় নিয়ে আসা এবং শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচানোর কাজ করে। পিঁপড়াদের উপনিবেশকে কখনো কখনো সুপার অর্গানিজম বা দলগতসত্তাও বলা হয়। কারণ, এরা সবাই মিলে একটি প্রাণীর মতো আচরণ করে এবং অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে। আর প্রতিটি পিঁপড়ার মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবল মেধা। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, দলের পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা, দূরদর্শিতার জন্য মিলিয়ন বছর আগের এ প্রাণী পৃথিবীতে এখনো টিকে আছে। তাদের রয়েছে চরম শৃঙ্খলাবোধ। তাদের গোত্রের সবার কাজ ভাগ করা থাকে, কেউ অলসভাবে দিন কাটায় না।

jagonewsঅ্যান্টার্কটিকার মতো শীতল জায়গা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সবখানে পিঁপড়ার দেখা পাওয়া যায়। পিঁপড়া বৈরী পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট পারদর্শী। শীতকাল তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে তারা গরমকালে জরুরি কাজগুলো সেরে রাখে। যেমন খাবার জোগার, তাদের থাকার নিরাপদ জায়গা ঠিক করা। শীতকালে যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য গরমকালে তাদের নিরাপদ বাসস্থান ঠিক করে রাখে। তাদের আক্রমণ না করলে, তারা সাধারণত কামড় দেয় না।

নিজেরা ওজনে হালকা হলেও প্রয়োজনে তারা নিজের ওজনের চেয়ে ২০ গুণ বেশি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। পিঁপড়ার দুটি পাকস্থলী। একটি পাকস্থলীতে সে তার খাবার নিজের জন্য, আরেকটাতে খাবার জমিয়ে রাখে অন্যদের জন্য। শর্তহীনভাবে পিঁপড়া তাদের খাবার গোত্রের অন্য পিঁপড়াকে দেয়।

jagonewsছোট পিঁপড়ার সবচেয়ে বড় মস্তিস্ক। পোকামাকড়দের মাঝে সবচেয়ে বড় মস্তিষ্কের অধিকারী হলো পিঁপড়া। অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় এদের মস্তিষ্কে প্রায় ২,৫০,০০০ টি কোষ বেশি রয়েছে। পিঁপড়া ঘুমায় না। কারণ এদের চোখের পাতা নেই, তাই এরা চোখ বন্ধ করতে পারে না।

পিঁপড়ার কিছু প্রজাতি রয়েছে যাদের বংশবিস্তার করতে যৌন প্রজনন প্রয়োজন হয় না। বিশেষ এক ক্লোনিং প্রক্রিয়ায় এরা বংশবিস্তার করে। নিষিক্ত ডিম নারী পিঁপড়ের দেহে বেড়ে উঠে আর অনিষিক্ত ডিম পুরুষ পিঁপড়ের দেহে। বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে তাদের সংখ্যা কমিয়ে পিঁপড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কেএসকে

আরও পড়ুন