ঢামেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগীর চাপ সামলে সেবার মান বাড়াতে কাজ চলছে, দমন করা হবে দালালচক্র
বুধবার ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী/ছবি: জাগো নিউজ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেবার মানোন্নয়নে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সঙ্গে হাসপাতালে দালালচক্র দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢামেক হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত রোগী সেবা নিতে আসেন। অনেক সময় একই বেডে দু-তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। অ্যানেস্থেসিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সহায়ক জনবলও কম। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন।

অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ঘুরে দেখে মন্ত্রী বলেন, কাঠামোগত দিক থেকে ওটিগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশিরভাগ ওটির মান উন্নয়নের প্রয়োজন আছে।
একটি মাত্র ওটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয়—এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব ওটি আধুনিকায়ন করা হবে, যেন রোগীরা উন্নত পরিবেশে অস্ত্রোপচার সেবা পান।
হাসপাতালের লন্ড্রি ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিজস্ব ওয়াশিং প্ল্যান্ট না থাকায় চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় কাপড় ধোয়ানো হয়, যেখানে মান বজায় না রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালককে কন্ট্রাক্টরের বিল কর্তন ও কঠোর তদারকির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
খাবারের মান সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগীদের জন্য সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে; পচা বা অখাদ্য খাবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তিনি পাননি।
হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সময়সূচি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনা হবে।
‘দেশের হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নে আমাদের সবাইকে ডিসিপ্লিন মানতে হবে’—যোগ করেন তিনি।
দালালচক্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রোগী ভর্তিতে অর্থ আদায়, ট্রলি বেচাকেনা বা রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অনিয়ম শতভাগ বন্ধ করতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।

সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু ঢামেক হাসপাতাল নয়, সারাদেশে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ট্রমা সেন্টারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের মানুষ যেন নিজ জেলা পর্যায়েই চিকিৎসা পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমবে।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১২-১৩ দিনের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করেছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিক ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
এসইউজে/এমকেআর