জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট/ছবি: সংগৃহীত
জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। সোমবার (১৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটি বলছে, এক বছরের ব্যবধানে দেশে ব্যাপক পরিমাণে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে ২০২৩ সালে তামাক চাষ হয়েছিল ৯৩ হাজার একর জমিতে, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৪২ হাজার একর। অর্থাৎ এক বছরে দেশে ৪৯ হাজার একর জমিতে তামাক চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এত ব্যাপক এলাকাজুড়ে তামাক চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে। অনিয়ন্ত্রিত তামাক উৎপাদন একদিকে খাদ্য সংকট তৈরি করছে, অপরদিকে বাড়াচ্ছে ব্যবহার।
‘খাদ্য সংকট থেকে উত্তরণ এবং তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ এবং ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এসব আইনের বিরোধিতা করে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ তথা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে রূপান্তরিত করতে হবে,’ দাবি করে তামাক বিরোধী জোট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাটি, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাককে অর্থকরী ফসল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি মূলত কাদের জন্য অর্থকরী? তামাক চাষ করে কৃষক যদি লাভবান হতো তাহলে এই চাষপ্রবণ রংপুর দেশের ধনী এলাকা হিসেবে পরিচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত রংপুরের পরিচিতি মঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে। তামাক উৎপাদন করে লাভবান যদি কেউ হয়ে থাকে সেটি শুধু তামাক কোম্পানি।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে তামাক বিরোধী জোট জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাকের কারণে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তামাক চাষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জমি, হুমকিতে পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা। ভূমি ও কৃষি জমি সুরক্ষায় সরকার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিন বা ততধিক ফসলি কৃষিভূমিতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তামাক চাষ করা যাবে না এবং এক ও দুই ফসলি কৃষি ভূমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য ও কৃষি ভূমি রক্ষায় সহায়ক।
সংগঠনটি আরও বলছে, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি কৃষির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাই তামাক বিরোধী জোট কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে চলমান সংসদ অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশসহ তামাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইএইচটি/একিউএফ