ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. স্বাস্থ্য

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে জুনে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে জুন মাস থেকে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। উভয়পক্ষ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি যৌথ স্বাস্থ্য সহযোগিতা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এতে সংক্রামক রোগ মোকাবিলা, ভবিষ্যৎ মহামারি প্রস্তুতি এবং সারভেইলেন্স সিস্টেম শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় আগাম শনাক্তকরন (আর্লি ডায়াগনোসিস) ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না কোনো দেশ আমাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দিক। পরিকল্পনার শুরু থেকেই আমরা আমাদের প্রয়োজন তুলে ধরবো, তাদের সক্ষমতা জানবো এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে পাঁচ বছরের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করবো।

এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে, যা আগামী মে মাসের মধ্যে সুপারিশ চূড়ান্ত করবে।

হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইন চললেও ২০১৮ সালের পর আর কোনো বড় ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, যারা ভ্যাকসিন নেয়নি, তাদের মধ্যেই হামের সংক্রমণ বেশি মারাত্মকভাবে দেখা যাচ্ছে।

সরকার এরইমধ্যে টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। দ্রুত টিকা আমদানি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বন্ধ থাকা আইসিইউ ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আইসোলেশন ওয়ার্ড, ভেন্টিলেটর এবং চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। রাজশাহী ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এসইউজে/এসএনআর